মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার আবারও বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তার এই মন্তব্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান দ্রুত এবং মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র এতে যুক্ত হবে কি না, সেটি আমি সিদ্ধান্ত নেব। তবে এ ধারণার বিষয়ে আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত।’
গালফ বা উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের সঙ্গে একটি পরিকল্পিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইয়েমেনে হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার তারা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপ দখল করেছে। সপ্তাহান্তের এসব ঘটনার পর সোমবার বাজার পুনরায় চালু হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সকালের লেনদেন চলাকালে পরে এই বাড়তি দামের কিছুটা কমে আসে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জ্বালানি ডিজেলের গড় খুচরা দাম প্রতি গ্যালনে ৬ দশমিক ২৩ ডলারের ওপরে উঠে নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একটি বৈঠক আয়োজন করার কথা ছিল ওমানের। বৈঠকটির উদ্দেশ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পথ খুঁজে বের করা। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে।
তবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি রাতারাতি ঘোষণা করেন, বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে তাদের পরিচালনাগত নিয়ম বা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা ৭৭টি জাহাজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এসব জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের সময় জরিমানা, আটক বা জাহাজ বাজেয়াপ্তের মুখে পড়তে পারে।
সোমবার মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজের গড় সংখ্যা বাড়ছে। তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, চলতি মাসে তেলের প্রবাহ কমে যেতে পারে। কারণ আগস্টে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
অপরদিকে ট্রাম্প বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে নিজের একটি রিসোর্টে আয়োজিত একটি গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন। সপ্তাহান্তে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই, অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচনের পর, ইরানের যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাবে।’
খবরটি শেয়ার করুন