মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি *** ডাকযোগে ভোট কঠিন করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, ঠেকিয়ে দিল আদালত *** কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ *** ইরান দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায়—ফের দাবি ট্রাম্পের *** ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ *** পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের ৩ কমিটি গঠন, ৫২ বিশিষ্টজনের উদ্বেগ *** ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও বঙ্গবন্ধুর ছবি পুনঃস্থাপনের দাবিতে তিন ছাত্রসংগঠনের বিক্ষোভ *** মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন: পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ *** হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া পায়নি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ *** যুবদল নেতার ফোন না ধরায় রেলকর্মীকে মারধরের অভিযোগ, দেড় ঘণ্টা টিকিট বিক্রি বন্ধ

নেশার টাকা না দিলে সন্তান বিক্রির হুমকি, ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে উধাও বাবা

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

১১ মাসের ছোট্ট মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রতিটি দিন কাটছে মা রুমানা আক্তারের। প্রায় দুই মাস ধরে মেয়েকে কাছে না পেয়ে অশ্রুসিক্ত দিন কাটাচ্ছেন তিনি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরসভার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

রুমানার অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার স্বামী হামিদুল মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে ১১ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে কোলে নিয়ে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাইরে বের হন। এরপর শিশুটিকে নিয়ে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।

রুমানার দাবি, তার স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানকে নিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। ঘটনার দুই দিন পর মুঠোফোনে হামিদুল তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন রুমানা।

রুমানা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। নিখোঁজের দুই দিন পর বিকেলে মোবাইলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভাবের কারণে সেই টাকা দিতে পারিনি। এমনকি সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর আরও দুটি বউ আছে, সেটিও জানতে পেরেছি। আমি কিছুই চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। সে আমাকে সন্তান বিক্রি করার হুমকি দিয়েছে। আমার সন্তান কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

নির্যাতনের অভিযোগ

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হামিদুল মিয়া ও রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দুই-তিন মাস সংসার ভালোভাবে চললেও পরে হামিদুল নিয়মিত মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রুমানা জানান, নির্যাতন সহ্য করেও তিনি সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

এর প্রায় পাঁচ মাস পর হামিদুল শ্বশুরবাড়িতে এসে মেয়েকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে বের হন। এরপর থেকে তিনি ও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। রুমানা একাধিকবার হামিদুলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানান।

ঘটনার পর থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করেও সন্তানকে ফিরে না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রুমানা। তার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

রুমানার মা রোশনা বেগম বলেন, ‘এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পাপ করেছিলাম। ছেলেটি যে এত নিষ্ঠুর, ১১ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়েটিকে বিক্রি করার হুমকি দেবে, তা ভাবিনি। ১০ হাজার টাকা চায়। আমি কীভাবে দেব? আমি গরিব মানুষ। আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, ‘সে সব ধরনের নেশা করে। এ রকম বেয়াদব স্বামী যেন আর কারও কপালে না জোটে। আমরা শিশুটিকে উদ্ধার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হামিদুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।’

গাইবান্ধা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250