বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

ক্ষতিকর ফেসবুক কনটেন্টে বাংলাদেশে মানবাধিকার ঝুঁকিতে: অ্যামনেস্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৫০ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ফেসবুকে ক্ষতিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় মেটা সময়মতো ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশে আরও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিগ টেক অ্যাকাউন্টেবিলিটি বিভাগের প্রধান আলিয়া আল ঘুসাইন বলেন, বাংলাদেশ এখনো মানবাধিকার সংকটে নেই, তবে সতর্কবার্তার লক্ষণগুলো দৃশ্যমান।

তিনি বলেন, সীমান্তপারের ক্ষতিকর কনটেন্ট, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সাম্প্রদায়িক বয়ান ও অ্যালগরিদমিক বিস্তার—এই সবকিছুর সমন্বয় এমন একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি করছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, গত ১২ই ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্টের পরিমাণ বেড়েছে, যার কিছু দেশের বাইরে থেকে ছড়ানো হয়েছে।

গত বছরের ১৮ই ডিসেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। ডেইলি স্টার ও স্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ডিসমিসল্যাবের তদন্তে দেখা যায়, কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব হামলার হুমকি ছড়িয়ে পড়ছিল।

অনেক পোস্টে এই দুটি গণমাধ্যমকে ‘ভারতের এজেন্ট’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তাদের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া ও হামলার আহ্বান জানানো হয়। তদন্তে দেখা গেছে, অনলাইনে সহিংসতার উসকানি ও ওই হামলার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র ছিল।

খবরে বলা হয়, সহিংসতার আহ্বান জানানো পোস্ট অপসারণে বিলম্ব নিয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ মেটাকে সতর্ক করেছিল এবং এর ফলে জননিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনলাইনে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য কীভাবে সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলে—তা তুলে ধরা হয়েছে।

আলিয়া আল ঘুসাইন বলেন, অনলাইনের ক্ষতিকর কনটেন্ট শুধু ভার্চ্যুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বাস্তব জীবনে সহিংসতা ও অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এটি প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর হাতে থাকা ক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্ব অনেকবার দেখেছে, কীভাবে ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি ঠেকানোর এখনো সুযোগ আছে। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া মেটার দায়িত্ব।

জে.এস/

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250