ছবি: সংগৃহীত
ফিনল্যান্ডের বিমানবাহিনী তাদের বিভিন্ন ইউনিটের পতাকা থেকে স্বস্তিকা চিহ্ন সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছে। কারেলিয়া এয়ার উইংয়ের নতুন কমান্ডার কর্নেল তোমি বোহম জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বিদেশি চাপ। বিশেষ করে, আমেরিকার সঙ্গে কাজ করার সময় এ প্রতীক ব্যবহারের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর হেলসিঙ্কি টাইমসের।
কর্নেল বোহম বলেন, ‘আমরা এ পতাকা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে মাঝে মাঝে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।’
তিনি আরও জানান, বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর ইতিমধ্যে স্বস্তিকা চিহ্ন ব্যবহার থেকে সরে এসেছে। কর্নেল বোহম আশা করেন, তার দায়িত্বকালে ইউনিটগুলোর পতাকা থেকে স্বস্তিকা সরানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ব বদলে গেছে এবং আমরা সময় অনুযায়ী চলছি। তবে এটি করার পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না।’
হেলসিঙ্কি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের বিমানবাহিনী ১৯১৮ সালে প্রতীকটি নেয়। আর জার্মান নাৎসি পার্টি ১৯৩০-এর দশকে এর ব্যবহার শুরু করে। ফিনিশ বিমানবাহিনী ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তাদের উড়োজাহাজে চিহ্নটি ব্যবহার করত। ১৯৫০-এর দশকে এটি পতাকায় যুক্ত করা হয়।
স্বস্তিকা শব্দটি সংস্কৃত, যার অর্থ ‘ভালো হওয়া’ বা ‘সৌভাগ্য’। এটি হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মসহ বিভিন্ন সংস্কৃতিতে একটি শুভ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফিনল্যান্ডে চিহ্নটি সৌভাগ্য ও অনন্তকালের প্রতীক হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত ছিল।
তবে বিংশ শতাব্দীতে জার্মান নাৎসি পার্টির ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী এটি ঘৃণা ও নৃশংসতার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে জার্মানি ও অন্যান্য অনেক দেশে এর ব্যবহার অবৈধ বা সীমাবদ্ধ।
সাম্প্রতিক সময়ে হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টেইভো টেইভাইনের ‘হাকারিস্টিন হিস্টোরিয়া’ (স্বস্তিকার ইতিহাস) নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এর পরেই ফিনল্যান্ডের বিমানবাহিনীর স্বস্তিকা প্রতীক নিয়ে বিতর্ক আবার আলোচনায় আসে।
কয়েক বছর আগে ফিনল্যান্ডের সরকার বর্ণবাদ ও বৈষম্য মোকাবিলায় একটি দল গঠন করেছিল। এ দলই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর স্বস্তিকা নিষিদ্ধ করার আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়।
সব মিলিয়ে ফিনল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির ইতিহাসের সংযোগের কারণে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝি এড়াতে ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এ পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন