রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল *** মমতার আমলে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছিল: ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী *** উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে ১,৩৯৯টি ভূমিকম্প হয়ে থাকতে পারে: গবেষণা *** হুতিদের মোকাবিলায় এবার সৌদির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা তুরস্কের! যুদ্ধ করবে কি? *** কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ *** তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি *** জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান *** মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের *** আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক: উগ্রবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

বিমানে না হলে স্থলবন্দর দিয়ে নেতাদের নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, ১৪ই জুলাই ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পথ ও কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দাবি, শেখ হাসিনা এবং ভারতে অবস্থান করা দলের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ স্থলপথে দেশে ফেরার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়; পরিস্থিতি, আইনি বাস্তবতা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবে তাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ।

সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে তিনি যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, তাকে প্রথমে কারাগারে যেতে হবে। তার ভাষায়, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের আলাদা করে বিবেচনা করার কিছু নেই। সরকার ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরার কথা বলে থাকেন, সেটিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে আত্মগোপনে থাকা বা দেশত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন। তার মতে, শেখ হাসিনা কোথায়, কীভাবে বা কখন আত্মসমর্পণ করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও তাকে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

এর আগে গত ১০ জুলাই রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও থাকতে পারে, তবু তিনি ফিরবেন। তার ভাষায়, নিজের মাটিতেই তিনি আইনি লড়াই করতে চান। রয়টার্সের ওই সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয় এবং আল জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন মোড় হিসেবে উল্লেখ করে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বিদেশে অবস্থান করা তিনজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থান করা দলের অনেক শীর্ষ নেতার পাসপোর্টের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন করলেও নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আবার ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের রায়ের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাস্তব জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, শেখ হাসিনাকে কোনো বিমান পরিবহন করবে না—এমন কোনো সার্বজনীন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে নেই। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এ ধরনের বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার তথ্যও প্রকাশ্যে নেই। কোনো বাণিজ্যিক বা রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস তাকে পরিবহন করবে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, ভিসা ও ইমিগ্রেশন নীতি, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিজস্ব নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে। ফলে তাকে বহন করা সম্পূর্ণ অসম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৭ সালের চেয়ে ভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন তাকে বহন না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। কিন্তু সে সময় তিনি বর্তমানের মতো আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন না। এখনকার বাস্তবতায় আইনি বিষয়গুলো আরও জটিল হওয়ায় বিকল্প পথ নিয়েও আলোচনা চলছে।

সেই প্রেক্ষাপটে বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুখবর ডটকমের সঙ্গে কথা বলা নেতারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ভারত থেকে স্থলপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হতে পারেন অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওই নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা ভারতস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আগ্রহী। তাদের মতে, দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করা রাজনৈতিকভাবেও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ মনে করছে।

রয়টার্সের সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন, তার প্রত্যাবর্তন হবে স্বেচ্ছায় এবং আদালতের মুখোমুখি হওয়ার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, তার দল নিষিদ্ধ হওয়া এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে তিনি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার দলের নেতা-কর্মীরা নানা ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন।

শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পর সরকারও নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলবে। তিনি বলেন, সরকার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা সত্যিই যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন, তাহলে সেটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। কারণ, একদিকে তিনি একাধিক মামলার আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অন্যদিকে তিনি দেশের দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি। ফলে তার প্রত্যাবর্তন শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এ মুহূর্তে শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন—বিমানযোগে, নাকি স্থলপথে—সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো দলীয় ঘোষণা নেই। তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট: তিনি দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভিন্ন বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগ নেতা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250