রবিবার, ১লা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** খামেনি নিহত হয়েছেন, ট্রুথ সোশ্যালে নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প *** নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পও মনে করছেন খামেনি ‘বেঁচে নেই’ *** আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে আছেন, মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দাবি ইরানের *** খামেনির মরদেহ পাওয়া গেছে, ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি *** ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ‘বেঁচে নেই এমন লক্ষণ পাওয়া গেছে’, দাবি নেতানিয়াহুর *** কুয়েতের সব মসজিদে তারাবির নামাজ বন্ধ ঘোষণা *** মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত সরকার *** খামেনির অবস্থা কোথায়, জানে না ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো বার্তা পেয়েছে কি আওয়ামী লীগ? *** এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী, নাহিদের উচ্ছ্বাস

রাষ্ট্র ও এস্টাবলিশমেন্টে ছাত্রদের ‘ন্যায্য হিস্যা’ চান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৮ই মে ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্র ও এস্টাবলিশমেন্টে ছাত্রদের ‘ন্যায্য হিস্যা’ চান তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে ‘প্রায় ৩ ডজন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র মাত্র দুজন। ছাত্র প্রতিনিধিদেরও এস্টাবলিশমেন্ট রাষ্ট্রপতি অপসারণের ঘটনার পর থেকে কোণঠাসা করে রেখেছে। আমরা দুজন সর্বোচ্চ ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট করতে পারছি, কিন্তু প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে হলে সরকারে সুষম ছাত্র প্রতিনিধিত্ব লাগবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (৮ই মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা এক পোস্টে মাহফুজ আলম এ দাবি করেন। ‘কৈফিয়ত কিংবা বাস্তবতা’ শিরোনামে এক পোস্টে তিনি কথা এসব বলেন।

মাহফুজ আলম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ক্ষমতার ভরকেন্দ্র অনেক। ফলে কাজের দায় সরকারের, কিন্তু কাজ করে ক্ষমতার অন্যান্য ভরকেন্দ্র। জোড়াতালি দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব না, সম্ভব নয় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তও। রাজনৈতিক দলগুলো ডিসেম্বরের পর সহযোগী ভূমিকায় নেই। কিন্তু, ঠিকই প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশে তারা স্টেইক নিয়ে বসে আছেন। এস্টাবলিশমেন্ট দ্বিদলীয় বৃত্তে ফিরতে এবং ছাত্রদের মাইনাস করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদের একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের কয়েকটি দল হয়ে যাওয়াতে তারা এখন বিভক্ত। তদুপরি অন্য রাজনৈতিক দলের মতোই তারা ট্রিটেড হচ্ছেন। এ জন্য নাগরিক কমিটিই ছিল দীর্ঘ মেয়াদে অভ্যুত্থানের ফোর্স হিসাবে টেকসই। যাই হোক! এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম দেশব্যাপী ছাত্রদের গুছিয়ে উঠতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতা বিভক্ত ও দ্বিধান্বিত। সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র কম্প্রোম্পাইজড। মিডিয়া ও ব্যবসায়ে লীগের আধিপত্য কমেনি। (আওয়ামী) লীগের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে হাত দেওয়া যায়নি। পুরোনো দ্বিদলীয় বন্দোবস্ত টিকে গেছে। বিচার বিভাগ এখনো দ্বি-দলীয় বৃত্তে বন্দী।’

তথ্য উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘বাম-ডানের কালচারাল (সাংস্কৃতিক) ক্যাচাল জুলাইকে দুর্বল করেছে এবং শাহবাগ-শাপলাকে চিরন্তন করে তুলেছে। ডানপন্থীরা ভুল রাজনীতি করেছেন এবং নতুন বাস্তবতায় আবেগের বশে প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা রেখেছেন। বামপন্থীরা প্রথম থেকেই সরকারের প্রতি স্কেপ্টিক্যাল (সংশয়পূর্ণ) এবং অভ্যুত্থানের পক্ষে জোরদার ভূমিকা রাখতে অসফল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে ডেডিকেটেড ছাত্রকর্মীরা ক্রেডিট, দলবাজি আর কোরাম বাজির খপ্পরে পড়েছেন। আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ হাতেগোনা কয়েকজনের বিরুদ্ধে, কিন্তু ডিমোরালাইজড হয়েছে সমগ্র ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পক্ষের প্রতিষ্ঠান ও নতুন সিভিল সোসাইটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক অ্যালায়েন্সের ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতার কোনো হিস্যা নেই।’

মাহফুজ আলম বলেন, ‘শহীদ-আহতদের ক্ষেত্রে এবং বিচারের প্রশ্নে সরকারসহ সব অংশীজন অসফল। অভ্যুত্থান শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে বিস্তৃত হয়নি। এস্টাবলিশমেন্ট ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থবাদী চিন্তা ও কর্মের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদের অনভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাব এ জন্য দায়ী। সর্বোপরি ছাত্রদের মাইনাস করে (ছাত্রদের ব্যর্থতা অনস্বীকার্য বটে) দ্বিদলীয় বন্দোবস্তে ফেরার জন্য এস্টাবলিশমেন্ট অপেক্ষমাণ। ছাত্রদের পরিপূর্ণ অসহযোগিতার মুখে ইতিমধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে, মাহফুজ আলম উল্লিখিত সমস্যাগুলোর সমাধান প্রসঙ্গে বলেন, ‘সমাধান? রাষ্ট্র ও এস্টাবলিশমেন্টে ছাত্রদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তার দালালদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আঘাত করা। এগুলো পূরণ করার পূর্বশর্ত হলো—ছাত্রদের মধ্যে সততা, আদর্শ, নিষ্ঠা ও ঐক্য ফিরিয়ে আনা। পুরোনো বন্দোবস্তের সৈনিকদের অকার্যকর করে তোলা।’

এইচ.এস/

মাহফুজ আলম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250