প্রতীকী ছবি
সম্প্রতি মুক্তবেনী এবং সবুজ শাড়ি পরে আসা ভারতীয় এক তারকাকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে জানান, তিনি ’কালার থেরাপি’ করেন। এর পরেই শুরু হয় এ নিয়ে ব্যাপক চর্চা। প্রশ্ন দেখা দেয় এই কালার থেরাপি বস্তুটি কী কিংবা করলে কী লাভ হয়? এটা কি চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্য কোনও অনুষঙ্গ?
আসলে শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় নানা ধরনের রং, রঙিন আলোর ব্যবহার রয়েছে। মানুষের মধ্যে ভালো এবং খারাপ, দু’ধরনের শক্তিই বর্তমান। সেই এনার্জির মধ্যে সমতা রাখতে সহায়তা করে কালার থেরাপি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বিশেষ এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে ‘ক্রোমোথেরাপি’ বলা হয়। ওষুধের বিকল্প হিসাবে এই থেরাপি ব্যবহার করেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে একজন মনোবিদ দেবশীলা বসুর বলেন, ‘এক-একটি রঙের এক এক রকম প্রভাব মনের উপর পড়ে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ বা পরিস্থিতির ভূমিকাও কম নয়।’
এটি খুব সহজ হিসাব। শোকসভা আর বিয়েবাড়িতে পরে যাওয়ার পোশাকের ধরন, রং তো ভিন্ন হবেই। আবার, শিশুদের স্কুলের পোশাকের কথাই বলা যায়। তার নেপথ্যেও তো মন শান্ত রাখা, ধীরস্থির হওয়া, একাগ্রতা বাড়িয়ে তোলার মতো বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপের কথায়, ‘মনস্তত্ত্ব বা মনোবিজ্ঞানে অবশ্যই রঙের ভূমিকা রয়েছে। তবে কার মনে কোন রং প্রভাব ফেলবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। কারও সাদা রং প্রিয়, আবার কারও সবুজ। কিন্তু তার সঙ্গে দিন বা বারের কোনও সম্পর্ক নেই।’
রং নিয়ে এত আলোচনা কিন্তু শুরু হয়েছিল প্রাচীন মিশরে। পরে গ্রিস, চীন এবং ভারতেও এই কালার থেরাপি শুরু হয়। যদিও এ বিষয়ে বিশেষ তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে এই থেরাপি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মতে, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রাজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই থেরাপির ব্যবহার করা হয়। মনের নানা অনুভূতি বা আবেগের সঙ্গে এক-একটি রঙের সম্পর্ক রয়েছে।
আসলে মনের উপর দখল আনতে আলো এবং রঙের যে ভূমিকা রয়েছে, তা তো প্যারা সাইকোলজিতে প্রমাণিত। কোনও ব্যক্তির আবেগ, আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে রঙের দ্বারা প্রভাবিত হয়, সে সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা রয়েছে প্যারা সাইকোলজিতে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, লাল রং কখনও ভালোবাসা-শুভত্বের প্রতীক, আবার কখনও আসক্তির। কখনো বিদ্রোহ বা বিপ্লবের। কিন্তু ‘বুল ফাইট’-এর সময়ে লাল রঙের কাপড় ব্যবহার করা হয় পশুটিকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য। নীল রং শান্তির, হলুদ আশার আলো।
আর সবুজ? এমনিতে তা সজীবতা, উর্বরতার প্রতীক।
কেসি/ আই.কে.জে/