বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন *** নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কাছে ৭১ সংগঠনের ১০ সুপারিশ *** ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না’ *** ‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে *** পায়ে পাড়া দিয়ে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ থাকব, তা হবে না: শফিকুর রহমান *** বিচ্ছেদের পর গলায় স্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে দুধ দিয়ে গোসল

পাহাড়ে ভ্রমণে বিনা মূল্যের আশ্রয় ‘বোথি’

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৩:২৮ অপরাহ্ন, ১৫ই আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন পাহাড়ে ঘুরে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেন অনেকে। গহিন পাহাড়ে আধুনিক ব্যবস্থাপনা থাকে না বলে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। যদিও এর উপায় হিসেবে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটানো বেশ পরিচিত। তবে এই পাহাড়প্রেমীদের জন্য একটু ভিন্ন ধরনের ভাবনার বিষয়টি ভেবেছিল ব্রিটেনের মাউন্টেন বোথি অ্যাসোসিয়েশন।

ব্রিটেনের বিভিন্ন পাহাড় ও দুর্গম অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে সংগঠনটির বোথি বা পাহাড়ি আশ্রয়স্থল। পাহাড়ে ঘুরে বেড়িয়ে যেকোনো বোথিতে রাত কাটানো যায় বুকিং না দিয়ে। তবে এই ব্যবস্থা আধুনিক সুবিধা ও সজ্জার নয়। বোথিতে নেই বিদ্যুৎ ও পানির লাইন, এমনকি টয়লেটও নেই। রয়েছে শুধু চারটি দেয়াল, ছাদ, দরজা-জানালা আর পাহাড়ি নির্জনতা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সম্প্রতি মাউন্টেন বোথি অ্যাসোসিয়েশনের ৬০ বছর পূর্তি হলো। এ উপলক্ষে ফিবি স্মিথ তার বন্ধু এলিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন এক পাহাড়ি যাত্রায়। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ব্রিটেনের লেক ডিস্ট্রিক্টের পাহাড়ি পথে যাত্রা শুরু করেন দুই বন্ধু। তাদের গন্তব্য গ্রেট লিঙ্গি হাট। আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি চলছে। বৃষ্টির ধারায় উইন্ড স্ক্রিন ঝাপসা হয়ে গেছে। ফিবি স্মিথ এর আগে বহুবার এই ভ্রমণে এলেও এলির এটি প্রথমবার ভ্রমণ। তাই একদিকে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে ছিল খানিকটা ভয়। যাত্রাপথে ঠান্ডায় প্রায় কাবু অবস্থা এলির। এভাবেই গন্তব্যে পৌঁছালেন তারা।

বোথি মূলত পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবন। এগুলো একসময় খনিশ্রমিক, শিকারি কিংবা পাহাড়ি স্কুলগুলোর আশ্রয় ছিল। পরে মাউন্টেইন বোথি অ্যাসোসিয়েশন পরিত্যক্ত ভবনগুলো সংস্কার করে পাহাড়ি পথিক, পর্বতারোহী এবং অভিযাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এগুলোতে থাকার জন্য কোনো বুকিং ও অর্থের দরকার হয় না। তবে নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে মাউন্টেইন বোথি অ্যাসোসিয়েশন ১০৫টি বোথি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। ২০০৯ সালে ওয়েবসাইটে বোথির অবস্থান প্রকাশের পর থেকে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়।

বোথিতে থাকার কিছু নিয়ম রয়েছে। সেগুলো হলো, আগুনের ঝুঁকি এড়াতে মোমবাতি ও চুলা নির্দিষ্ট স্থানে রাখা, প্রাকৃতিক কর্মের জন্য আশ্রয় থেকে দূরে গিয়ে গর্ত খোঁড়া এবং সব বর্জ্য সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। লেখক ফিবি ও এলি শুধু নিজেদের আবর্জনা নয়, অন্যদের ফেলে যাওয়া মোমবাতির খালি প্যাকেটও পরিষ্কার করে নিয়ে আসেন।

বর্তমানে মাউন্টেন বোথি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন। বার্ষিক সদস্য ফি ২৫ পাউন্ড হলেও অসংখ্য লোক বিনা মূল্যে এই আশ্রয়গুলো ব্যবহার করে। যদিও নতুন বোথি নেওয়ার পরিকল্পনা নেই; তবু এটি ব্রিটেনের পাহাড়ি সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ হয়ে উঠেছে।

জে.এস/

পাহাড়

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250