প্রতীকী ছবি
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের সামাজিক রক্ষণশীল রাজ্য কানোর বৃহত্তম শহরের একটি আদালত দুই টিকটক সেলিব্রিটিকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, নিজেদের আবেগপূর্ণ চুম্বনের ভিডিও পোস্ট করার দায়ে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।
একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মঙ্গলবার (২১শে অক্টোবর) হিসবাহ নামে পরিচিত কানোর শরিয়া পুলিশকে নির্দেশনা দেন, ৬০ দিনের মধ্যে ‘অশালীন’ কনটেন্ট পোস্ট করা এ দুই ইনফ্লুয়েন্সারের বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে।
কানো রাজ্যের বিচার বিভাগের মুখপাত্র বাবা-জিবো ইব্রাহিম এএফপিকে বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হিসবাহকে ওই পুরুষ এবং মহিলাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন, কারণ তারা এতটাই গভীরভাবে প্রেমে মগ্ন যে টিকটকে প্রকাশ্যে রোমান্টিক দৃশ্য প্রদর্শন করেছেন।'
কানো রাজ্য নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এক ডজন রাজ্যের মধ্যে অন্যতম, যেখানে সাধারণ আইনের পাশাপাশি শরিয়া আইনও কার্যকর রয়েছে।
ইদ্রিস মাই উশিরিয়া ও বাসিরা ইয়ার গুদার ভিডিও টিকটকে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে তাদের ঘনিষ্ঠ হতে এবং চুম্বন করতে দেখা যায়। এর ফলে কানোর কিছু বাসিন্দাদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
মাই উশিরিয়া, যিনি তার ভিডিওর কারণে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর আগেও বেশ কয়েকবার ঝামেলায় পড়েছেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রায়ের আগে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছিল। ইয়ার গুদা লুকিয়ে ছিলেন।
হিসবাহর একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, তারা আদালতের আদেশ পেয়েছেন এবং বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। হিসবাহর মহাপরিচালক আব্বা সুফি এএফপিকে বলেন, ‘যদিও আদালত ৬০ দিনের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন করার কথা বলেছেন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
সুফি জানান, মাই উশিরিয়ার মা-বাবাকে হিসবাহ তলব করেছিল এবং তারা বিয়ের জন্য ‘স্পষ্ট সম্মতি’ দিয়েছেন। পাশাপাশি হিসবাহ ইয়ার গুদার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, হবু দম্পতির জন্য কানো রাজ্য সরকার একটি বাড়ি কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে পাত্রীর এ শর্ত পূরণ হয় যে তারা কোনো ভাড়া বাড়িতে থাকবেন না।
কানো শহর একটি স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্পের কেন্দ্র, যা ‘কানিউড নামে পরিচিত। বলা হয়, নাইজেরিয়ার বৃহত্তর ‘নলিউড’ সিনেমার এই অংশটি স্থানীয় হাউসা ভাষায় প্রতি মাসে ২০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র তৈরি করে। কানিউড দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ধর্মগুরু এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
তবে কানিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের স্কেচ এবং গানের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সেন্সর বোর্ডকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের কর্তৃত্ব বাড়াতে উৎসাহিত করেছে—যার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন টিকটকারকে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন