ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি বছর নিরাপত্তা সহায়তা হিসেবে ৩৮০ কোটি ডলার পেয়ে থাকে ইসরায়েল। আকস্মিক এক ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসরায়েলের আর এই সহায়তা প্রয়োজন নেই’। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
১০ বছর মেয়াদি নিরাপত্তা সহায়তা চুক্তির আওতায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩৮০ কোটি ডলার করে পাওয়ার কথা ইসরায়েলের। এর মধ্যে ৩৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ। মূলত অস্ত্র কেনার জন্য এই সহায়তা পায় তেল আবিব।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ জানান, এ বছর শেষেই এই সহায়তা চুক্তি বাতিল হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, এই সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের আপত্তি নেই। ২০১৯ সালে এ সহায়তা কর্মসূচি শুরু হয়। ২০১৬ সালে বারাক ওবামার আমলে ওই চুক্তি সই হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’ দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই এ সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের এক নম্বর মিত্র। আমরা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে তাদের বেশি সহায়তা দিই। এখন তাদের আর এ সহায়তার প্রয়োজন নেই। ... যদি প্রয়োজন হতো, তাহলে আমি বলতাম, সহায়তা চালিয়ে যাও।’
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি পেয়েছে ইসরায়েল। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এ অর্থ ১৯৪৬ সালের পর থেকে অন্য যেকোনো দেশকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার চেয়ে অনেক বেশি।
জানুয়ারিতে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর আশা করছেন তিনি। মে মাসে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনতে চান।
জুনে নেতানিয়াহু তার দেশের সামরিক স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান।
খবরটি শেয়ার করুন