ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী মনজিত কৌর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অপহরণের পর মারধর করে গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তার শরীরে। ২ মাস লড়াইয়ের পর মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর আগে শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অনুসারীদের বলেছিলেন, একটু ধৈর্য ধরতে, সুস্থ হয়ে এসে সবাইকে জানাবেন কী ঘটেছিল তার সঙ্গে। কিন্তু সে সুযোগ আর মিলল না। গত ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
গত ২৮ জুলাই ইনস্টাগ্রামে পাঞ্জাবের আরেক ইনফ্লুয়েন্সার ‘গিলমোহালি’র সঙ্গে যৌথভাবে দেওয়া এক পোস্টে মনজিতের শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছিল। সেখানে গিলমোহালি বলেন, ‘মনজিত সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন। তিনি এখন ৫০ শতাংশ সুস্থ। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে তিনি নিজেই সরাসরি লাইভে এসে আপনাদের সব বলবেন—কে ছিল, কী ঘটেছিল এবং কীভাবে ঘটেছিল।’
গিল মোহালি আরও বলেন, ‘দয়া করে ঘরে বসে আপনারা কাউকে বিচার করবেন না। কারও সম্পর্কে ভালো কিছু বলতে না পারলে দয়া করে খারাপ কিছু বলবেন না। আপনাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি। কারণ তার পরিবার ভীষণ আতঙ্কে আছে। মনজিত নিজেও খুব ভয়ে আছেন। তার সঙ্গে যা ঘটেছে আর তিনি যা আশা করেছিলেন—সেটার কথা ভেবে তিনি আতঙ্কিত।’
মনজিতের মায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৩ জুলাই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪-এর একটি মদের দোকানের কাছে শুভি ও পিন্ডা নামে পূর্বপরিচিত দুই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যান মনজিত। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে পাঞ্জাবের রূপনগর জেলার মোরিন্দায় নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেখানে মনজিতকে মারধর করে একটি গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে এক বন্ধু ঘটনাস্থলে গিয়ে কম্বল দিয়ে আগুন নেভান।
মনজিত কৌরকে প্রথমে মোরিন্দার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মোহালিতে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গত ৯ জুলাই তাকে চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
কয়েক সপ্তাহ অচেতন থাকার পর গত ৫ আগস্ট স্বল্প সময়ের জন্য জ্ঞান ফেরে মনজিতের। তখন তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন বলে জানা গেছে। এর পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং ২৬ আগস্ট তিনি মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর পর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪০ (১) ধারা (অপহরণ), ১০৩ (১) ধারা (হত্যা) এবং ৩ (৫) ধারা (যৌথ অপরাধের দায়)-এর অধীনে একটি এফআইআর করা হয়েছে।
সেক্টর ৩৪ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাদি লাল জানান, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। শুভি ও পিন্ডা নামের দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামতও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মনজিত কৌরের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। তার সাত বছর বয়সী এক ছেলে আছে।
খবরটি শেয়ার করুন