বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ছে আমিরাতের শ্রমবাজারে

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪১ অপরাহ্ন, ৯ই জুলাই ২০২৪

#

ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কারণ সমৃদ্ধ এই দেশটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ। বিদায়ী অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে উপসাগরীয় এই দেশটি থেকে। তবে সম্ভাবনার এ শ্রমবাজারে নিয়ম না মেনে কর্মী পাঠালে বাজার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল হামুদীর সঙ্গে বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর একটি বৈঠক হয়। এতে নতুন করে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি চাকরি বা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেই বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন হামুদী।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর দুই হাজার মোটরসাইকেল আরোহী ও ট্যাক্সিচালক নেবে। এরই মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত হামুদীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছর পাঠানো হবে ১৩শ কর্মী। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্র উল্লেখ করেছে। 

এই শ্রমবাজারটিতে নতুন করে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এটি নতুন একটি সুযোগ। এখানে শিক্ষিত মানুষদের প্রায়োরিটি বেশি থাকবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটি থেকে রেমিট্যান্সও আসবে বেশি।

সংশ্লিষ্ট এক তথ্য মতে, আমিরাতে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে পাড়ি দিয়েছেন ২৬ হাজার ১৯২ জন বাংলাদেশি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশিদের নেওয়া বন্ধ করে দেয় আরব আমিরাত। ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ এর আয়োজক হওয়ার দৌড়ে ২০১২ সালের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ দুবাইয়ের পক্ষে ভোট না দিয়ে মস্কোর (রাশিয়া) পক্ষে ভোট দেওয়ায় ওই পদক্ষেপ নেয় আরব আমিরাত। এরপর দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে ২০২০ সালে পুনরায় দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১ হাজার ৮২ জন শ্রমিক দেশটিতে যান। এরপর ২০২১ সালে পাড়ি জমান ২৯ হাজার দুইশ দুজন শ্রমিক। ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি আরব আমিরাতে কাজের জন্য যান।

বিএমইটির ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যানে দেওয়া তথ্য মতে, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২১ লাখ ৫৮ হাজার কর্মী আরব আমিরাতে গেছেন, যা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে রয়েছে সৌদি আরব, দেশটি থেকে ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭৫ জন কর্মী গেছেন।

সম্ভাবনাময় এ শ্রমবাজারে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের নিয়ম মানা উচিত। একই সঙ্গে তাদের বেতন যেন স্থানীয় জীবনযাপন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

কেবি/ আই.কে.জে/

শ্রমবাজার

খবরটি শেয়ার করুন