অন্তঃসত্ত্বা কুকুরটি ডিসি হিল এলাকায় থাকত। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে কুকুরটির এই ছবি তুলেছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে বের হয় একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান। ঠিক সেই সময় ফটকের সামনে বসে ছিল একটি কুকুর। গাড়িটি থামেনি। ধীরগতিতে এসে সেটি সরাসরি কুকুরটির গায়ের ওপর দিয়েই চলে যায়। কুকুরটি ছটফট করতে থাকে, আর পেছনে দৌড়ে আসে আরও দুটি কুকুর।
পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে। কুকুরটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আহত হয়ে এটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
পরদিন শুক্রবার থেকেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশকর্মী ও প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করেন, এমন নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট গাড়িটির চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। থানায় এ নিয়ে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ডিসি হিলে সরকারি শীর্ষ দুই কর্মকর্তা চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন। পথচারী ও এলাকার বাসিন্দারা ওই এলাকায় হাঁটতে যান। তবে ওই রাতে ডিসি হিলের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল। গাড়িটি বের হওয়ার আগে নিরাপত্তাকর্মী ফটক খুলে দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়িটি সরকারি। একজন কর্মকর্তাকে নামিয়ে দিয়ে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে।
বিভাগীয় কমিশনার সোমবার (৮ই ডিসেম্বর) রাত সাড়ে দশটায় সুখবর ডটকমকে মুঠোফোনে বলেন, একজন কর্মকর্তাকে পৌঁছে দিয়ে গাড়িটি চলে যাচ্ছিল। এর মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক ওই চালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কুকুরটির মৃত্যুতে চালকের দায়–দায়িত্ব কতটুকু; তা বের করবে কমিটি। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী রিতু পারভী। তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, চালকের দায়িত্বহীনতায় কুকুরটির মৃত্যু হয়েছে। আমরা চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দেখে সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি চিকিৎসক মো. মনজুরুল করিম গত রোববার কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কুকুরটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। গাড়ির চাপায় কুকুরটি মারা গেছে। তাই অভিযোগ করেছি।’
তিনি জানান, ঘটনার পর মৃত কুকুরটিকে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য সংগ্রহকারী গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করছি।’
সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। সেখানে উপজেলা কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুল রহমানের সরকারি বাসভবনে জন্মানো ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়।
অভিযোগের পর হাসানুলের স্ত্রী নিশি রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার করা মামলায় তাকে আদালত জেলহাজতে পাঠান।
খবরটি শেয়ার করুন