বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রংপুরে চার খুন: হত্যার স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নতুন ভাষ্য *** স্বাস্থ্যসেবায় প্ল্যান মেডি ট্রিপের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের ০% ইএমআই সুবিধা *** বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আইনশৃঙ্খলা, সার ও বিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্ন *** সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় তিন সাপের বাচ্চা *** প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** বাংলাদেশের প্রশংসা করে নিজের পুরনো প্রস্তাব মনে করালেন স্টিভ ওয়াহ *** নেপালে বাংলাদেশি পর্যটকেরা কেমন আছেন, জানাল দূতাবাস *** কড়াইল-সাততলা-ভাসানটেক বস্তির পুনর্বাসনে ২০তলা ভবন হবে: মীর শাহে আলম *** নেপালকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ: রাষ্ট্রপতি

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নিহত ২৭০ ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:০২ অপরাহ্ন, ২৭শে আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও চীনা ভূখণ্ড তিব্বতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ জনের বেশি। এর মধ্যে নেপালেরই ২৭০ জন এবং চীনের তিব্বতের আছে ৩ জন। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বিদেশি পর্যটকসহ শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। বন্যার পানিতে ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি নেপালের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সকালে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় নেপালের তিনটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২৭০জন নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপাল পুলিশ জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ২৭০ জন ছাড়িয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও চীনা রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার পৃথক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয় ভোতে কোশি নদীর উপনদী লহন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসে আটকে যাওয়ার পর। চীনের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার রাসুয়াগাধি এলাকার কাছে প্রথমে তিমুরে আঘাত হানে বন্যা। শত শত মানুষের বসতি এই এলাকায় ছিল। পানির স্রোতে বসতির বড় একটি অংশ ভেসে যায়। এরপর বন্যার পানি দ্রুত ভাটির দিকে ধেয়ে যায়।

এ সময় ওই এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাননি। তারা প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন, এমন সময় হঠাৎ বন্যা আঘাত হানে। রাসুয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ মাটি কাঁপতে অনুভব করে তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে। বাইরে বের হয়ে তিনি দেখেন, ওপরের দিক থেকে বিশাল পানির দেয়াল নেমে আসছে। পানির সঙ্গে ধোঁয়ার মতো কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল এবং সেটি তিমুরে বাজারের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছিল।

ধুঙ্গানা বলেন, বন্যার পানির উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত উঠেছিল এবং ঢেউয়ের মতো বাজারের ওপর দিয়ে ধেয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাজার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েক ডজন মানুষ পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। রাসুওয়াগাধি কাস্টমস চেকপয়েন্টে অপেক্ষায় থাকা ৩০০ টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও পানিতে ভেসে যায়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। মোট নিখোঁজের সংখ্যা কয়েকশ। নিখোঁজ মানুষের বিপুল সংখ্যার কারণে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বুধবারের বন্যা নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে। এমনকি এটি ১৯৯৩ সালের সারলাহী, রৌতাহাট ও মাকওয়ানপুরের ভয়াবহ বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৯৯৩ সালের ওই বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটিই নেপালের ভয়াবহতম দুর্যোগের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নেপাল-তিব্বত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250