সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাড়ছে হুতিদের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ইরানের হুঁশিয়ারি *** জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী *** সাগরে শক্তিশালী হচ্ছে লঘুচাপ, ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি ঝড়ের আভাস *** আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেভাবে ছড়াল আগুন *** আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাশ উদ্ধার *** জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম স্ত্রীসহ থানায় এমপি নজরুল *** সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা *** কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন *** শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পল্লবীতে বাসে আগুন *** ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার পর এবার প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, ৩রা আগস্ট ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্তির দিন, আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) ভারতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত চলে যাওয়ার পর গত দুই বছরে তিনি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমের উন্মুক্ত আয়োজনে অংশ নেননি।

তবে এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে ফিরে আসার বিষয়ে কথা বলতে পারেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে গতকাল রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেবেন। নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন হবে এবং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্লেষক ও প্রবাসী প্রতিনিধির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবসের সভাপতি ড. ওয়ায়েল আওয়াদ।

শেখ হাসিনার এই প্রকাশ্য উপস্থিতি এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, তিনি আগামী ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসে আত্মসমর্পণ করবেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত এবং রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে চান। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশ, ভারতসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রয়টার্সে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের পর থেকেই শেখ হাসিনার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কয়েক দিন আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে দেশটির মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত সরকার শেখ হাসিনার অবস্থানকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও তাকে সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার খবর সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে এই অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং একটি গণমাধ্যম-আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবু শেখ হাসিনা সেখানে কী ধরনের বক্তব্য দেন, দেশে ফেরার সময়সূচি বা কৌশল নিয়ে নতুন কোনো ঘোষণা দেন কি না, কিংবা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মূল্যায়ন কী হবে—এসব প্রশ্ন ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে আসেননি। মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগের ভার্চ্যুয়াল কর্মসূচিতে তার বক্তব্য প্রচারিত হলেও কোনো উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমের আয়োজনে তাকে দেখা যায়নি। ফলে আগামী ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটি তার নির্বাসন-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও গত দুই বছরে আমূল বদলে গেছে। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

নতুন সরকার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই প্রকাশ্য উপস্থিতি কেবল একটি গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনা নয়; এটি তার রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং দেশে ফেরার ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ঘোষণা, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত দাবি এবং এরপরই প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত—এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ৫ আগস্টের বক্তব্যে শেখ হাসিনা নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আওয়ামী লীগের অবস্থান, দেশে ফেরার প্রস্তুতি এবং চলমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেন। ফলে তার এই উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250