ছবি: সংগৃহীত
থালাপতি বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মা উমা কৃষ্ণানকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। দর্শকাসনের যেখানে বিজয়ের পরিবার ও খ্যাতনামা অতিথিরা ছিলেন, সেখানেই বসেন তৃষা ও তার মা। ছেলেকে অভিনন্দন জানান বিজয়ের মা।
গত কয়েক মাস ধরে বিজয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ঘুরছে। তাই দর্শকদের নজর ছিল তৃষার দিকেই।
বিজয় যখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন দর্শকাসনে চোখ ছলছল করে উঠেছিল তৃষার। সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন ফটোসাংবাদিকরা। আর তার ঠিক পরেই নিজের সামাজিক মাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি শেয়ার করে ভালোবাসার কথা জানান তৃষা কৃষ্ণান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। তবে কি সম্পর্কের জল্পনায় পরোক্ষভাবে সিলমোহর দিলেন অভিনেত্রী?
রোববার হালকা আকাশি রঙের সিল্কের শাড়ি ও ঘিয়ে রঙের ব্লাউজ পরেছিলেন তৃষা কৃষ্ণান। খোঁপায় ছিল ফুল, গলায় হালকা হীরার গয়না, কপালে ছোট্ট টিপ। এই বেশে অভিনেত্রীকে দেখে মুগ্ধ হন দর্শকেরা। ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন—‘ভালোবাসার শব্দ সবসময়ই বেশি জোরালো হয়।’ তৃষার এ বার্তাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
এর আগে নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনই ছিল তৃষার জন্মদিন। সেদিন মন্দিরে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ভক্ত-অনুরাগীদের ধারণা, শুধু জন্মদিন নয়; বিজয়ের জন্যও প্রার্থনা করেছিলেন তিনি।
রোববার সকালেই তৃষার বাড়ির সামনে পৌঁছে যান ফটোসাংবাদিকরা। বাড়ি থেকে বেরোতেই তাদের মুখোমুখি হন অভিনেত্রী। ‘উদগ্রীব হয়ে আছি’—স্বল্প কথায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তবে নিজেদের সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে এখনো নীরব তৃষা।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেয়েছে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে তার দল। তবে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
গত ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কয়েক দিন ধরে চলে নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। অবশেষে রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথ নেন তিনি।
থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস। বিজয়ের এই সাফল্যে গর্বিত তার বাবা-মাও। তারাও উপস্থিত ছিলেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। বিজয়ের বাবা বলেন, “ও আমার স্বপ্নপূরণ করেছে। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। বিজয়ের জন্ম ১৯৭৪ সালে। তখন আমি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতাম। একসময় খাবারের জন্যও লড়াই করেছি। ও কিন্তু সব মনে রেখেছে।”
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন