সোমবার, ২৩শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘সমালোচনা নিতে পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ *** বিদেশি কূটনীতিককে জামায়াত আমিরের জড়িয়ে ধরা ‘বিতর্ক’, শুভেচ্ছা নাকি অসদাচরণ? *** ‘ঈদের নামাজে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে উপস্থিতি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়’ *** যুদ্ধ বন্ধে মরিয়া ট্রাম্প, আলোচনার জন্য উপযুক্ত ইরানি নেতা খুঁজে পাচ্ছেন না *** যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে মিথ্যাচার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো *** ‘এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে ভারত’ *** হলে হলে ছুটছেন তারকারা *** ‘নির্বাসিত’ জীবনে বিশ্বের প্রথম জেন জি ‘রাষ্ট্রপতি’ *** যে কোম্পানির বাস চালান পিন্টু, সেটির বাসেই প্রাণ গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ের *** একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

পুনর্গঠনের পথে আওয়ামী লীগ, নতুন নেতৃত্বে ফেরার প্রত্যাশা

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০১:৩৬ অপরাহ্ন, ২৩শে মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে এবং স্থগিত করা হয় দলটির নিবন্ধন। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

ভোটের আগে ‘নো বোট নো ভোট’ ক্যাম্পেইন চালালেও নির্বাচন প্রতিহত করতে বড় কোনো কর্মসূচি দিতে দেখা যায়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটিকে।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে শুরু হয়েছে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া—এমনটাই দাবি করছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দমন-পীড়ন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় আওয়ামী লীগ এখন তুলনামূলক স্বস্তিতে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, কোথাও কোথাও অবস্থানও নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থানকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। ফলে সরকার ‘সবুজ সংকেত’ দিলে ইতিবাচক ধারার রাজনীতিতে ফেরার প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ তার সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। এ লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন, অযোগ্য কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ত্যাগী, আদর্শবান এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগ দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানোর প্রচেষ্টা হতে পারে। অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সংকট, সামরিক শাসন এবং দমন-পীড়নের মুখে পড়েও দলটি টিকে থেকেছে এবং পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দল নয়, এটি একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এখানে যারা দলের আদর্শ ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বা নিজেদের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করেছেন, তাদের স্থান নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

এদিকে, দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত কর্মীদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে। এতে করে দল আরও শক্তিশালী ও জনমুখী হয়ে উঠতে পারবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি দলের টিকে থাকার জন্য নিয়মিত সংস্কার ও আত্মসমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের বর্তমান উদ্যোগকে তারা সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তবে এই পুনর্গঠন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর—বিশেষ করে নেতৃত্ব নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, অতীতে বহুবার তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হলেও আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলেই তাদের বিশ্বাস।

ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ একনেতা হোয়াটসঅ্যাপে সুখবর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি। কোনো দমন-পীড়ন বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই দলকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।” এই বক্তব্যে দলটির আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়।

এছাড়া, দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তরুণ ও মেধাবী নেতাদের সামনে এনে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে দলটি দীর্ঘমেয়াদে আরও সংগঠিত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুধু দলটির জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় দলটি কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণমুখী হতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা—এই তিনের সমন্বয়ে দলটি পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী অবস্থান পুনরুদ্ধার করবে। 

এখন দেখার বিষয়, এই পুনর্গঠনের যাত্রা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দলটি কত দ্রুত জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাজনীতির মূলধারায় শক্তভাবে ফিরে আসতে পারে।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250