ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাটলার র্যালিতে হওয়া হামলার ফুটেজ ও তার রক্তাক্ত ছবি প্রচার করে এক ভয়াবহ হুমকি দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। সম্প্রচারের সময় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি বাক্য—এবার আর টার্গেট মিস হবে না (This time, the bullet won’t miss)।
গতকাল বুধবার (১৪ই জানুয়ারি) এই ভিডিও ক্লিপটি প্রচার করা হয় বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কখন প্রচার করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক যখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই এই উসকানিমূলক বার্তা দিল খামেনি প্রশাসন। তথ্যসূত্র: এএফপি ও ডেইলি মেইল।
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘সাহায্য আসছে। মেক ইরান গ্রেপ এগেইন।’
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে পারে। বিশেষ করে ইরানি যুবক এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। অবশ্য ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়ার পর ইরানের বিচার বিভাগ এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা আছে।’
বিভিন্ন মানবাধিকার সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৮ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রতিদিন বহু আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
একজন চিকিৎসক পরিস্থিতিকে গণহতাহতের পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে হাসপাতালের মর্গে সারিবদ্ধ মরদেহ এবং স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য দেখা গেছে।
ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের একাধিক নাগরিক অভিযোগ করেছেন—ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির নির্দেশ পেয়েছে, বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে, মরদেহ ফেরত পেতে পরিবারগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
খবরটি শেয়ার করুন