মঙ্গলবার, ১৩ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** প্রবাসীদের সুখবর দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল *** শিক্ষার্থীদের চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা *** জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ *** দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা *** প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের চতুর্থ শুনানি আজ *** নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আসিফ নজরুলের দাবি প্রত্যাখ্যান আইসিসির *** ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি জানুয়ারির শেষে—দিল্লি সফরে জার্মান চ্যান্সেলর *** ইরানে বিক্ষোভে এই পর্যন্ত নিহতের যে সংখ্যা জানাল দ্য টাইম *** সত্যিকারের বন্ধুত্বে মতবিরোধ থাকতে পারে, ট্রাম্প-মোদি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে ইরানিদের বিক্ষোভ, ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, ৮ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া টানা ১১ দিনের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লোরদেগানে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থান, পেছনে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অন্য বিভিন্ন এলাকার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে পাথর নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ইরানের সব ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহর ও জনপদে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলমান অস্থিরতায় অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবিসি পার্সিয়ান ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ পাঁচজন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।

গত ২৮শে ডিসেম্বর বিক্ষোভের সূচনা। রাজধানী তেহরানের দোকানদাররা সেদিন রাস্তায় নেমে আসেন, খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর আরও এক দফা বড় ধরনের পতনের মুখে পড়লে। গত এক বছরে রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন এবং আন্দোলন দ্রুত অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়। কোথাও কোথাও ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভির প্রতি সমর্থনও প্রকাশ করা হয়।

গতকাল বুধবার (৭ই জানুয়ারি) বিবিসি পার্সিয়ান যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে কাজভিন শহরে বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ এবং ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোন’ স্লোগান দিচ্ছেন। পারস্য উপসাগরীয় বন্দর শহর বন্দর আব্বাসের ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ‘পুলিশ বাহিনী, সমর্থন করো, সমর্থন করো’ স্লোগান দেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিয়া পবিত্র নগরী মাশহাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয় এবং একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। আরেকটি ভিডিওতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া পাহলভি রাজবংশের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বুধবার বিকেলে ইরাক সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবাদানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। বিবিসি পার্সিয়ান যাচাই করা ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘কামান, ট্যাংক, আতশবাজি! মোল্লাদের বিদায় চাই।’ শহরের একটি ভবনের বারান্দা থেকে ধারণ করা অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের পাথর ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপের মুখে নিরাপত্তা বাহিনী পিছু হটতে হটতে গুলি ছুড়ছে।

রাত নামার পর পশ্চিমাঞ্চলীয় আরেক শহর আলিগুদারজে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে। এর আগে সেখানে একটি চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘জনতার অভ্যুত্থান, জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছিলেন।

লোরদেগানে বুধবারের বিক্ষোভ চলাকালে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর দেয় ফার্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহত পুলিশ সদস্যদের নাম হাদি আজারসালিম ও মুসলেম মাহদাভিনাসাব। তাদের ‘সশস্ত্র ব্যক্তি’ গুলি করে হত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়। ফার্সের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকারীরা ‘দাঙ্গাকারীদের’ একটি দলের সঙ্গে ছিল।

ইরান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250