ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে ডিবির বিরুদ্ধে তাদের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ সংস্থা ইউএনবির খবরে বলা হয়, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে, এদিন বিকেলের দিকে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘হত্যার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছে পুলিশ। আমরা যতটুকু মিডিয়ায় বলেছি, ততটুকুই পুলিশকে জানিয়েছি।’
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
তবে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বের হচ্ছেন। তার স্বজনদের অভিযোগ, পার্থকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে গেল ডিবি। আর এখন তিনি খোঁড়াচ্ছেন। নির্যাতনের ব্যাপারে ডিবির পক্ষ থেকে কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়া পাড়ার তালাবদ্ধ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরের দিন ২৩ আগস্ট ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত ও বিদ্যুৎ দাস নামে দুইজন সাক্ষীও আদালতের মাধ্যমে জবানবন্দি দেন।
খবরটি শেয়ার করুন