শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আওয়ামী লীগের মিছিল: পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর *** আওয়ামী লীগ ফিরে আসার পথ তৈরি করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন *** সরকারের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক না থাকলে আওয়ামী লীগ মিছিল করে কীভাবে—প্রশ্ন পরওয়ারের *** তাবলিগের সাদ কান্ধলভীকে তওবা করতে বললেন হেফাজতের আমির *** মার্কিন এআই ‘ক্লদ’ দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে নজর রাখছে ইরান *** নেপালে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার *** আদাবরে নারীর ৪ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পাওয়া যায়নি দুই পা *** এআই ব্যবহার করে যেভাবে আওয়ামী লীগপন্থী ‘খবর’ চালিয়েছেন এক ব্যক্তি *** ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলেজের নবীনবরণে ‘গানের কনসার্ট’ বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের *** ইরান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে, দাবি ট্রাম্পের

এআই ব্যবহার করে যেভাবে আওয়ামী লীগপন্থী ‘খবর’ চালিয়েছেন এক ব্যক্তি

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৩ অপরাহ্ন, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা থেকে প্রায় এক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে আওয়ামী লীগপন্থী ভুয়া সংবাদ তৈরি ও প্রচারের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনার তথ্য প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি এ কাজে তাদের ‘ক্লড’ নামের এআই চ্যাটবটের ২৯টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন। এসব অ্যাকাউন্ট দিয়ে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি শিরোনাম, ৩০০টি মিথ্যা সংবাদ এবং ১ হাজার ৫০০টি ছবি তৈরির নির্দেশনা তৈরি করা হয়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ‘হাউ ওয়ান পারসন ইউজড এআই টু রান প্রো-আওয়ামী লীগ নিউজ ইন বাংলাদেশ ফর অলমোস্ট আ ইয়ার: অ্যানথ্রপিক’ শিরোনামে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটির লেখক বৃন্দা তুলসিয়ান। দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনটি অ্যানথ্রপিকের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ১৫৪ পৃষ্ঠার বিস্তারিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই কার্যক্রমকে ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নেটওয়ার্কটির প্রধান লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালানো এবং দলটির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ বা দলটির কোনো নেতা এই কার্যক্রম পরিচালনা, নির্দেশনা বা অর্থায়ন করেছেন—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটির তৈরি কিছু বক্তব্য ভারতপন্থী ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ১৫৪ পৃষ্ঠার পুরো প্রতিবেদনে ভারত সম্পর্কে সরাসরি উল্লেখ রয়েছে মূলত এই একটি জায়গাতেই। ভারতীয় কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল—এমন অভিযোগও করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় কোনো নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণও তদন্তকারীরা পাননি।

এই বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করার কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ ছাড়েন এবং এরপর ভারতে অবস্থান করছেন। অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটি যে সময়ে সক্রিয় ছিল, তখন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল না। ফলে এটিকে সরকারের পক্ষে পরিচালিত প্রচারণা নয়, বরং বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষে পরিচালিত কার্যক্রম হিসেবে বর্ণনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিকের হিসাবে, গাইবান্ধার ওই ব্যক্তি প্রায় ১৬ মাস ধরে ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন। উদ্দেশ্য ছিল এআই ব্যবহারের নির্ধারিত সীমা এড়িয়ে যাওয়া এবং কার্যক্রম শনাক্ত হওয়া ঠেকানো।

এ জন্য তিনি ‘ফেক_নিউজ_৩.পাই’ নামে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করতেন। প্রোগ্রামটি একসঙ্গে ১৫টি শিরোনাম, তিনটি বিস্তারিত বানানো সংবাদ এবং ১৫টি ছবি তৈরির নির্দেশনা তৈরি করতে পারত। অ্যানথ্রপিকের হিসাবে, এভাবে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি শিরোনাম, ৩০০টি মিথ্যা বয়ান এবং ১ হাজার ৫০০টি ছবির নির্দেশনা তৈরি করা হয়। ক্লড তখন সরাসরি ছবি তৈরি করতে পারত না। তাই এসব নির্দেশনা অন্য কোনো এআই ব্যবস্থায় ব্যবহার করে ছবি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে অ্যানথ্রপিক।

তৈরি করা লেখা ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব এবং টিকটকে ভিডিও প্রচার করা হতো। অ্যানথ্রপিক বলেছে, এসব ভিডিওর প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ এলাকার আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা। বিশেষ করে যাদের সাক্ষরতার হার তুলনামূলকভাবে কম, তাদের সহজে বোঝার মতো ভাষায় এসব বিষয়বস্তু তৈরি করা হতো।

নেটওয়ার্কটির সঙ্গে যুক্ত আরেকটি প্রোগ্রাম ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশের কাজ করত। এক মাস আগেই ভিডিও প্রকাশের সময় নির্ধারণ করে রাখা যেত। তৃতীয় পক্ষের একটি সেবার মাধ্যমে ভিডিও পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল, যাতে পরিচালনাকারীর অবস্থান গোপন রাখা যায়। ফলে এক ব্যক্তি সরাসরি প্রতিটি ভিডিও তৈরি ও প্রকাশ না করেও একটি ধারাবাহিক প্রচারণা চালাতে পারতেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো, এসব বিষয়বস্তু যে মিথ্যা, তা পরিচালনাকারী ব্যক্তি নিজেই জানতেন বলে অ্যানথ্রপিক দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তির একটি অভ্যন্তরীণ নোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘কেউ জানে না যে খবরটি ভুয়া।’

অ্যানথ্রপিক আরও বলেছে, বিষয়বস্তুর ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক করা হয়েছিল। একই সঙ্গে এমনভাবে লেখা হতো, যাতে গ্রামের মানুষও সহজে বুঝতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ সংবাদ পাঠকের কাছে এগুলো সত্যিকারের খবর হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে তোলাই ছিল প্রচারণাটির অন্যতম লক্ষ্য।

এসব মিথ্যা সংবাদের বড় একটি অংশ ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো রাজনৈতিক পক্ষকে তালেবানধাঁচের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা বাহিনীতে অনুপ্রবেশের অভিযোগও ছড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে—এমন কাল্পনিক বয়ানও তৈরি করা হয়েছিল বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। কোনো কোনো প্রচারে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে তুলে ধরা হয়। দুর্নীতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে গোপন সমঝোতার অভিযোগও প্রচার করা হয়েছিল। এসব দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে—এমন কোনো তথ্য অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে নেই। বরং এগুলোকে মিথ্যা বা বানানো বয়ান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব ভিডিও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ভিত্তিক চ্যানেল ও অ্যাকাউন্টে ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকে দেখা গেছে। তবে অ্যানথ্রপিক বলেছে, এসব ভিডিও প্রকাশ করা প্রতিটি অ্যাকাউন্ট তারা শনাক্ত করতে পারেনি। একইভাবে নেটওয়ার্কের তৈরি বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বাইরের বড় কোনো দর্শকগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছেছিল—এমন প্রমাণও তারা পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত ‘ব্রেকআউট স্কেল’-এ এই কার্যক্রমকে তৃতীয় শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের দাবি, অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে তারা এই কার্যক্রম শনাক্ত করে। এরপর সংশ্লিষ্ট ক্লড অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নেটওয়ার্কটির আচরণগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার জন্য নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সঙ্গেও কার্যক্রমটির বিভিন্ন শনাক্তকারী তথ্য ভাগ করা হয়েছে।

তবে এই প্রতিবেদনের একটি সীমাবদ্ধতার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানথ্রপিক এক ব্যক্তিকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে। কিন্তু ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে তার উল্লেখ নেই। একইভাবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের সরাসরি জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে এমন কোনো বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়নি।

বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নেও বিষয়টি কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অ্যানথ্রপিক সরাসরি এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের নিজস্ব এআই ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে। তারা ২৯টি অ্যাকাউন্ট, ব্যবহৃত প্রোগ্রাম, তৈরি করা বিষয়বস্তুর ধরন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ভিডিওর মধ্যে মিলের কথা উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ প্রতিবেদনটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো গুজবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব প্রযুক্তিগত তদন্তই এর মূল ভিত্তি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে অ্যানথ্রপিকের উল্লেখ করা প্রতিটি রাজনৈতিক অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বরং প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নেটওয়ার্কটি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংবাদ তৈরি করেছিল। আবার ভারতপন্থী কিছু বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলেও সেই মিলের পেছনে কে ছিল, তা তদন্তে বের হয়নি। ভারত সরকার, ভারতীয় কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে—এমন প্রমাণও অ্যানথ্রপিক দেয়নি। ফলে ভারতকে এই নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

অ্যানথ্রপিকের বৃহত্তর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ঘটনাটি এআইয়ের অপব্যবহারের সাতটি ক্ষেত্রের একটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে সাইবার কার্যক্রম, প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা, নজরদারি, অস্ত্র তৈরির কাজে সহায়তা, জীববৈজ্ঞানিক অপব্যবহার, প্রতারণা এবং এআই মডেল চুরি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা যে ভুয়া সংবাদ কার্যক্রমগুলো শনাক্ত করেছে, সেগুলো তাদের নজরে আসা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অপব্যবহারের ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় দিক সম্ভবত প্রযুক্তির পরিবর্তিত ক্ষমতা। অতীতে রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য লেখক, সম্পাদক, ভিডিও নির্মাতা, প্রচারক এবং প্রযুক্তিবিদসহ একাধিক মানুষের প্রয়োজন হতো। এখন একটি এআই ব্যবস্থা এবং কিছু স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম ব্যবহার করে একজন মানুষও বিপুল পরিমাণ রাজনৈতিক বিষয়বস্তু তৈরি করতে পারছেন।

অ্যানথ্রপিকের ভাষায়, জটিল আক্রমণ চালানোর জন্য এখন আর সব সময় জটিল আক্রমণকারীর প্রয়োজন হচ্ছে না। এআই ব্যবহারের কারণে বড় অর্থ ও জনবলসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং এক ব্যক্তির পরিচালিত কার্যক্রমের মধ্যকার ব্যবধান কমে যাচ্ছে।

দেশের ঘটনাটি তাই শুধু আওয়ামী লীগপন্থী ভুয়া সংবাদ তৈরির একটি ঘটনা হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে একজন ব্যক্তির বিপুল পরিমাণ বিষয়বস্তু তৈরির সক্ষমতা। একই সঙ্গে এ ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে তৈরি মিথ্যা প্রচারণার সঙ্গে বিদেশি স্বার্থের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেলেই তার পেছনে বিদেশি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা ধরে নেওয়া যায় না।

এ মুহূর্তে অ্যানথ্রপিকের তদন্ত থেকে যে বিষয়টি সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তা হলো—গাইবান্ধার একজন ব্যক্তি ক্লডের একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আওয়ামী লীগপন্থী মিথ্যা বাংলা সংবাদ তৈরির একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনা করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে। ওই কার্যক্রমে আওয়ামী লীগের সরাসরি নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভারতীয় কোনো পক্ষের নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

ফলে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই অভিযোগগুলোকে যাচাই না করে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার বদলে অ্যানথ্রপিকের তদন্তের ফল এবং তার সীমাবদ্ধতা—দুই দিকই বিবেচনায় রাখা জরুরি। বলে অনেকের অভিমত।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250