সোমবার, ৫ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে আগুন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার: মতিউর রহমান *** রাবিতে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, চার সাংবাদিকসহ আহত ১০ *** গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আসেনি: মতিউর রহমান *** চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রতিযোগিতায় পরাশক্তিরা *** ইংল্যান্ডের কাছে রেকর্ড ব্যবধানে হেরে ‘লজ্জিত’ মদ্রিচ *** নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে—এলপিজির দাম নিয়ে পরওয়ার *** দাম বাড়ল অটোগ্যাসেরও *** বিডিনিউজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ *** বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার *** রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

শেখ হাসিনাকে ইউরোপের কোনো নিরাপদ দেশে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ, ভারতের অবস্থান এখনো ভিন্ন

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, ৪ঠা অক্টোবর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কোনো নিরাপদ দেশে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে নয়াদিল্লিকে পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় বিশ্লেষক জয়দীপ সাইকিয়া। তার মতে, শেখ হাসিনাকে ভারতে রেখে দেওয়া এবং বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ—দুই পথেই ভারতের বড় ধরনের কূটনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশে তাকে স্থায়ীভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে ভারত একদিকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে সরাসরি প্রত্যর্পণের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মূল্যও এড়াতে পারবে।

২৯ সেপ্টেম্বর দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়াস শেখ হাসিনা ডিলেমা’ শিরোনামের নিবন্ধে এসব পরামর্শ দিয়েছেন সাইকিয়া। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এখন ভারতের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক সংকটের নাম। ১৫ বছর ধরে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর ভারতের বাংলাদেশনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল। সেই নীতির সুফল হিসেবে ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও ট্রানজিটে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর সেই সম্পর্কই ভারতের জন্য নতুন সমস্যার কারণ হয়েছে।

সাইকিয়ার মতে, শেখ হাসিনাকে ভারতে রেখে দিলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বাধা তৈরি হচ্ছে। আবার তাকে ঢাকার হাতে তুলে দিলে ভারতের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ভিন্ন বার্তা যেতে পারে। বিশেষ করে ভারত যেসব দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলে দিল্লি পুরোনো অংশীদারদের পাশে থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে সাইকিয়ার এই বিশ্লেষণের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারি অবস্থানের পুরোপুরি মিল নেই। বরং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে যাওয়ার পর থেকে নয়াদিল্লির প্রকাশ্য বক্তব্যে তার নিরাপত্তা ও অবস্থানের বিষয়ে সতর্কতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর নিয়েও ভারত একাধিকবার মন্তব্য করেছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত চলে যান। পরদিন ৬ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশটির সংসদে জানান, শেখ হাসিনা খুব অল্প সময়ের নোটিশে ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন এবং ওই দিন সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান। ভারত তখন বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতিতে দেখছিল।

৮ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলা উপযুক্ত হবে না। একই সময়ে জয়শঙ্কর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

এরপরও শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির অবস্থানে প্রকাশ্য বিরূপতা দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে। মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, ভারত তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই বিবেচনা করে।

২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠানোর বিষয়টি ভারত স্বীকার করে। তবে তখন জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের কোনো মন্তব্য নেই।

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। ১৩ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগজনক। জয়সওয়াল বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন এবং বাংলাদেশে দ্রুত অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়।

একই বছরের ২০ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন—ঢাকার এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি। জয়সওয়াল বলেন, ভারতীয় সরকার এমন কোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নয় এবং ভারতের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে দ্রুত অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা জানান।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। ২৬ নভেম্বর ভারত জানায়, ঢাকার প্রত্যর্পণ অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং সেটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আল জাজিরাও তখন ভারতের এই অবস্থানের কথা প্রকাশ করে।

২০২৬ সালেও ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জুলাইয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয় এবং তা আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আগস্টে ঢাকার সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১০ আগস্ট ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ার কথা বলেছেন। তবে ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উত্থাপিত হয়। ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য প্রকাশ করে।

এর কয়েক দিন পর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি ভারতের বিচারব্যবস্থার সামনে রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে এমন একটি সমাধানের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যাতে সম্পর্ককে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের করে আনা যায়।

আগস্টের আরেকটি ঘটনা ভারতের অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ এ নিয়ে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত একমত নয়। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে ভারতের এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

তারপর দ্য ডিপ্লোম্যাটের আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারত শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে পুরোনো বন্ধুর পাশে থাকার একটি সংকেত দিয়েছে। অর্থাৎ ভারতের সরকারি বক্তব্য এবং পর্যবেক্ষকদের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ৩ অক্টোবর ঢাকায় দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ‘প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না’। তিনি বলেন, তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তাকে বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশি সামরিক বিমান ছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাকে ভারতে নিয়ে যায়নি বলেও তিনি জানান।

প্রত্যর্পণের বিষয়ে ত্রিবেদী বলেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আদালতও এর সঙ্গে যুক্ত। তাই শেখ হাসিনাকে কখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়। এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়া টুডে তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে সরাসরি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো নতুন নীতি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ এবং ২০২৬ সালে শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রবেশের সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নয়াদিল্লি বিষয়টিকে কেবল ব্যক্তিগত আশ্রয়ের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিসর, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ—সবকিছুকে বৃহত্তর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে।

এই জায়গাতেই জয়দীপ সাইকিয়ার পরামর্শের সঙ্গে ভারতের বর্তমান অবস্থানের পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্ট। সাইকিয়া যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে শেখ হাসিনার জন্য নতুন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলছেন, দিল্লির সরকারি বক্তব্যে এখন পর্যন্ত এমন কোনো তৃতীয় দেশের পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি। বরং প্রত্যর্পণকে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফলে সামনে ভারতের জন্য প্রশ্নটি শুধু শেখ হাসিনাকে কোথায় রাখা হবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ—এই চারটি বিষয়কে কীভাবে একসঙ্গে সামলাবে নয়াদিল্লি।

জয়দীপ সাইকিয়ার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হলে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভারত সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। বরং ৩ অক্টোবর দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দিল্লি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার কথাই সামনে রাখছে।

অর্থাৎ ‘হাসিনা সংকট’-এর সমাধান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন প্রস্তাব এলেও নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান এখনো বদলায়নি। শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দীনেশ ত্রিবেদী ২০২৪ সালের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যর্পণের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। কত দিনে সেটি শেষ হবে, তার কোনো সময়সীমাও দেননি।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যেই বর্তমান ভারতীয় নীতির জটিলতা ধরা পড়ছে। একদিকে ঢাকা চাইছে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে। অন্যদিকে দিল্লি তার ভারতে থাকার বিষয়টি এখনো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে না। ফলে সাইকিয়ার প্রস্তাব বাস্তবে গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এটুকু স্পষ্ট, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নয়। এটি এখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রশ্ন।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250