মঙ্গলবার, ১৩ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** প্রবাসীদের সুখবর দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল *** শিক্ষার্থীদের চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা *** জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ *** দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা *** প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের চতুর্থ শুনানি আজ *** নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আসিফ নজরুলের দাবি প্রত্যাখ্যান আইসিসির *** ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি জানুয়ারির শেষে—দিল্লি সফরে জার্মান চ্যান্সেলর *** ইরানে বিক্ষোভে এই পর্যন্ত নিহতের যে সংখ্যা জানাল দ্য টাইম *** সত্যিকারের বন্ধুত্বে মতবিরোধ থাকতে পারে, ট্রাম্প-মোদি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইরান বিক্ষোভের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠল ইলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৩:২৮ অপরাহ্ন, ৯ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রায় ২৫টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। তবে চলমান এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইলম। এখানেই নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষগুলোর কয়েকটি ঘটেছে বলে স্থানীয় ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে।

‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভে যতগুলো মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তার প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে। এই অঞ্চলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় ২০ জন সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর বড় একটি অংশ ঘটেছে ইলম, লোরেস্তান, চাহার-মাহাল ও বাখতিয়ারি এবং কোহগিলুয়ে ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত এসব অঞ্চলে মূলত কুর্দি ও লোর জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে।

এর মধ্যে ইলম প্রদেশে বিক্ষোভের ব্যাপকতা অনেকের জন্যই বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে এই প্রদেশের প্রায় ২৫ হাজার জনসংখ্যার শহর আবদানানে অনুষ্ঠিত একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মানুষের বিপুল উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরদিন পার্শ্ববর্তী লোরেস্তানের আলিগুদারজ শহরেও (জনসংখ্যা এক লাখের কম) বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা যায়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

ছোট এসব শহরের বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণের মাত্রা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করে দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষোভ ইরানের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কতটা গভীরে পৌঁছেছে।

তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভে উপস্থিতির মাত্রা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি লোরেস্তানের বিক্ষোভকে ‘ব্যর্থ দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছে, মানুষ সেখানে জড়োই হয়নি। যদিও একই প্রতিবেদনে তারা স্বীকার করেছে, ওই অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি।

এদিকে গত রোববার ইলমের রাজধানী ইলম শহরে অবস্থিত ইমাম খোমেনি হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বিক্ষোভে আহতদের ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল আক্রমণ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রবেশ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী হাসপাতালটির ভেতরে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং আহত বিক্ষোভকারীদের ধরে নিয়ে যায়। ইরানের মধ্যপন্থী দৈনিক ‘হাম-মিহান’ এর মাঠপর্যায়ের বিরল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলিবিদ্ধ হন। কয়েকজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান, বাকিরা সামরিক মানের গুলিতে আহত হয়ে পরে মারা যান। গ্রেপ্তার এড়াতে কিছু পরিবার আহত স্বজনদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয়।

এই ঘটনার পর সরকারিভাবে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও অনেক ইলমবাসীর কাছে এটি এখন তাদের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জে.এস/

ইরান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250