বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

নাঈমুল ইসলামের মধ্যে মোশতাকের ‘ছায়া’ দেখা আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগ

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ১১:৩১ অপরাহ্ন, ১৭ই এপ্রিল ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আমাদের নতুন সময়ের সাবেক ইমেরিটাস সম্পাদক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘাতকদের সঙ্গে হাত মেলানো খন্দকার মোশতাকের ‘ছায়া’ দেখা সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিসুল হকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অশ্লীলতা’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন অনেক নেটিজেন। আনিসুল হক দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক ও দেশের একজন নামকরা সাহিত্যিক।

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের অন্যতম আলোচিত পর্যটনস্থল কাফকা মিউজিয়ামের সামনে স্থাপিত একটি ভাস্কর্য ঘিরে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। ওই ভাস্কর্যের একটি ভিডিওচিত্র নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার তিনি শেয়ার করেন। এতে দেখা যায়—দুজন উলঙ্গ পুরুষ একটি পুকুরসদৃশ মানচিত্রের ওপর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করছেন। এই অদ্ভুত ও চমকপ্রদ শিল্পকর্মটি নির্মাণ করেছেন চেক ভাস্কর ডেভিড চের্নি, যিনি তার ব্যতিক্রমী ও ব্যঙ্গাত্মক শিল্পের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

জানা যায়, শিল্পকর্মটির নাম “পিস”। এটি কেবল বাহ্যিকভাবে চমকপ্রদ নয়, বরং এতে রয়েছে গভীর প্রতীকী অর্থ। ভাস্কর্যের দুই মূর্তি যেভাবে চেক প্রজাতন্ত্রের মানচিত্রের ওপর প্রস্রাব করছে, তা অনেকেই রাষ্ট্র, রাজনীতি কিংবা ক্ষমতার প্রতি এক ধরনের তীব্র ব্যঙ্গ হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ ধারণা করছেন, কাফকা মিউজিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই আনিসুল হক ভিডিওটি পোস্ট করেন। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

একদল নেটিজেন এই ভিডিও শেয়ার করাকে ‘অশ্লীলতা প্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করে। তাদের মতে, জনসমক্ষে এমন উলঙ্গ ভাস্কর্যের ভিডিও শেয়ার করা সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে দেশীয় প্রেক্ষাপটে এটি অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।

অন্যদিকে, আরেকটি অংশ জোরালোভাবে এই সমালোচনার বিরোধিতা করছে। তাদের বক্তব্য—এটি কোনো অশ্লীলতা নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি শিল্পকর্ম। শিল্পের প্রকাশভঙ্গি অনেক সময় প্রচলিত সামাজিক রুচির বাইরে যেতে পারে, কিন্তু তাই বলে তাকে অশ্লীল বলে বাতিল করা ঠিক নয়। তারা মনে করেন, একটি শিল্পকর্মকে তার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় দেখাই উচিত।

আনিসুল হক এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “প্রাগ শহরের কাফকা মিউজিয়ামে। ফ্রানৎস কাফকা সম্ভবত আধুনিককালের সবচেয়ে প্রভাব-সৃষ্টিকারী লেখক। চিন্তার জগৎ ‘মেটামরফসিস’-এর আগে আর পরে দুই রকম। ‘ট্রায়াল’ নিয়ে কত কথা। প্রাগ হলো কাফকার শহর। কাফকা মিউজিয়ামের ভেতরে ঘুরেছি আমরা। বাইরে এই ইনস্টলেশন আর্টওয়ার্ক। আর্টের শ্লীলতা সমাজের মূল্যবোধ দিয়ে মাপতে নেই।”

এদিকে, নাঈমুল ইসলাম খানকে যেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, সেদিনই আনিসুল হক ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করেছিলেন যে, শেখ হাসিনার সরকারের পতন আসন্ন। এ ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ সত্য হয়েছিল বলেও তার দাবি।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র ১৯ দিন পর আনিসুল হক আওয়ামী লীগের সাবেক সরকারের প্রতি তার সমর্থন ‘প্রত্যাহার’ করেছেন বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট ‘ভোট ও বাক্‌স্বাধীনতা না থাকলে যা হয়...’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ওই নিয়োগের (নাঈমুল ইসলামকে প্রেস সচিব) দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জনতার বিক্ষোভের প্রবল তরঙ্গ-অভিঘাতে শেখ হাসিনা ও তার ১৫ বছরের শাসনের লৌহদুর্গ খড়কুটোর মতো ভেসে যায় এবং তার উপলক্ষটা হয় ওই প্রেস সচিব সঞ্চালিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দুই সাংবাদিকের (একাত্তর টিভির সাবেক সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও এটিএন নিউজের সাবেক সাংবাদিক প্রভাষ আমিন) মোসাহেবি মার্কা দুটি প্রশ্ন।’

আনিসুল হক বলেন, ‘জুন মাসের ৭ তারিখ, ২০২৪। প্রজ্ঞাপন জারি হলো—তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব হিসেবে একজন সম্পাদককে (নাঈমুল ইসলাম খান) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষুদ্র কলামলেখক তা দেখে তার পত্রিকার বার্তাকক্ষে সহকর্মীদের উদ্দেশে একটি ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করেন—হাসিনা সরকারের পতনের আর দেরি নেই। সাংবাদিক সহকর্মীরা বললেন, এটা কেন বলছেন?’

তখন আনিসুল হক বলেন, ‘বলছি, তার কারণ আছে। বঙ্গবন্ধু তার পরিবারকে বলেছিলেন, যদি কোনো বিপদ আসে, প্রথম ফোনটা করবে তোমাদের মোশতাক চাচাকে। খন্দকার মোশতাক বিদূষক হিসেবে ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে। এমন নয় যে, এই নতুন প্রেস সচিব খন্দকার মোশতাকের মতো ষড়যন্ত্র করবেন। কিন্তু তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একটি মাত্র যোগ্যতায়।’

আনিসুল হকের মতে, ওই যোগ্যতা হলো—‘তিনি (নাঈমুল ইসলাম) তোষামোদ করতে পারেন সবচেয়ে বেশি। তার মানে প্রধানমন্ত্রী তোষামোদ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি শুধু তা-ই শোনেন, যা তিনি শুনতে চান। তিনি শুধু তা-ই দেখেন, যা তিনি দেখতে চান। এই অন্ধত্ব ও বধিরতা পতন ডেকে আনে।’

ওই উপসম্পাদকীয়তে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন নিয়েও কথা বলেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বিদেশ সফর শেষে গণভবনে তখনকার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের নামে যা হতো, তা চরম লজ্জাজনক প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। এসব দেখা মানে ছিল নির্মল বিনোদন, আবার একই সঙ্গে চরম উষ্মার উদ্রেকও করত।’

দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ওই লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ (আলোচিত) হয়। নেটিজেনরা লেখাটি নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।

অনেকে তখন এটাও বলেন, আনিসুল হক নিজেও আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে দলটি ও এর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের ‘গুণমুগ্ধ’ ছিলেন। সরকারের বিভিন্ন অন্যায়কেও তিনি বিভিন্ন সময় সমর্থন করে কলাম লিখেছেন। সরকারকে বিব্রত করে—এমন লেখা আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে আনিসুল একবারও লেখেননি। ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ পেয়ে নাঈমুল ইসলাম খানের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, নাঈমুল ইসলাম খান আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র দুই মাসেরও কম সময় আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কারণে এ পদে তিনি থাকতে পারেননি।

আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও আমাদের সময়ের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাঈমুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হওয়ার আগে আমাদের নতুন সময় পত্রিকার ইমেরিটাস সম্পাদক ছিলেন।

আনিসুল হক নাঈমুল ইসলাম খান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250