ফাইল ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের বলে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, 'আদালতের অনুমতি নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়েছে।'
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ সম্পর্কে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার গত ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, 'শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসছেন। কিছুই হবে না। রাস্তায় পুলিশের অবস্থা কতটা দুর্বল, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। তার এ মাসেই আসা উচিত ছিল ... তিনি এলে এই পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।'
আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান শফিকুল বলেন, 'অডিওটির বিষয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে সাবেক ওসি রাকিবুলের ভয়েস টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। অডিওর কণ্ঠটি তারই।'
তবে, রাকিবুল কার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কেন এমন মন্তব্য করেছিলেন, তার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
ডিবিপ্রধান বলেন, 'সবকিছুই আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।'
অডিও ছড়িয়ে যাওয়ার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুল এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে পুলিশ। সেদিনই রাকিবুলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার আরও ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামির ঘৃণা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিষয়ে তার মন্তব্য দেশের পরিবেশ উত্তপ্ত করতে এবং সহিংস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর্যাপ্ত প্ররোচনা ও উসকানি যুগিয়েছে।
আদালতে পেশ করা ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়, আসামি সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এবং সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারের সমালোচনা করেছেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এবং সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করেছেন। তারা জ্যেষ্ঠ কর্তৃপক্ষ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা, শত্রুতা ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের মধ্যে ঘৃণা ও উসকানি ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
খবরটি শেয়ার করুন