রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা ছিল, এখন নেই: জ্বালানিমন্ত্রী *** নেপালে বন্যার এক মাস: এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার *** বাংলা-ইংরেজি না জানা শুকি কীভাবে হামজাদের সঙ্গে কথা বলেন *** অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের সামনেই প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হেনস্তার চেষ্টা *** মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর *** ‘সমাজ এখনো নারীকে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়’ *** জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটল, নেপথ্যে কী *** কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতার মিছিলে ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ রতন, ভিডিও ভাইরালের পর সমালোচনা *** কক্সবাজার নিয়ে বিপদে সরকার, উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সংস্থা: শাহে আলম

নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘ভুল পথ থেকে’ সরে আসতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৯ অপরাহ্ন, ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নারীদের কথা আমলে নিতে হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসন ও ৩০০ আসনে মনোনয়ন নিয়ে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রস্তাবিত জুলাই সনদে তা তুলে ধরতে হবে। নারীদের কথা না শুনলে নারীরা ভোটের সময় নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবেন। আজ রোববার (১৪ই সেপ্টেম্বর) ‘নারীর রাজনৈতিক ফোরাম’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বক্তারা।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর–রুনি মিলনায়তনে ‘জাতীয় নির্বাচনে নারীর অধিকার আদায়ের রূপরেখা’ বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংরক্ষিত নারী আসনসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করে তাতে সরাসরি নির্বাচন এবং ৩০০ আসনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর জন্য ৩৩ শতাংশ মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। দাবি আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন বক্তারা।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দুই পর্বে আলোচনা শেষ হয় গত ৩১শে জুলাই। কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, আগের মতো জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনসংখ্যা ৫০ থাকবে এবং দলীয়ভাবে মনোনয়ন ব্যবস্থা থাকবে।

আর ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলগুলো ৫ শতাংশ আসনে মনোনয়ন দেবে নারীদের। ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থীর মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত দলগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক নির্বাচনে ৫ শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত রাখবে। প্রস্তাবিত জুলাই সনদের ২৪ অনুচ্ছেদে এসব প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর দাবি জানিয়েছেন নারী অধিকারকর্মীরা।  

এই প্রেক্ষাপটে গত ৩১শে আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’ নামের প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে ১২টি সংগঠন।

আজ সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী ফারাহ্‌ কবির বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন, আমরা শুধু ঢাকায় বসে বসে নারীর কথা আলোচনা করছি। বিষয়টি তা নয়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সারাদেশের প্রান্তিক নারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে আনা হয়েছে। তারা ঢাকায় এসে নিজেরা কথা বলার সুযোগ পান না। আমাদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা তাদের হয়ে কথা বলছি।’

তিনি বলেন, নারীরা ভোটার হিসেবে ও নেতৃত্ব দিতে ভোটে অংশ নিতে চান। জবাবদিহির মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিতে যে যোগ্যতা প্রয়োজন, সেটা নারীদের আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছি। একাধিক দলের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও দলের সঙ্গে কথা বলা হবে। আমরা আশা রাখি, তারা নারীদের উদ্বেগ বুঝতে পারবে।’ 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ ও প্রান্তিক নারীদের সঙ্গে কথা বলে নারীরা কী চান, সেই আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে আনা হয়েছে ফোরামের আলোচনায়। নারীরা সংরক্ষিত আসন ১০০ চাইছেন, তাতে সরাসরি নির্বাচন চাইছেন। এই তথ্যগুলো রাজনৈতিক দল যেন আমলে নেয়। কোন দল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তা বুঝতে পারলে নারীরা নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর এখন ভুলের পথ থেকে ফেরত আসার সময় রয়েছে। দলগুলোকে পুরোনা রাজনৈতিক হিসাবের বাইরে আসতে হবে। নারীদের কথা আমলে না নিলে বিপদ দলগুলোরই হবে।

প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনেই সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন করা সম্ভব। নারী নেতৃত্ব প্রস্তত আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে ১০০ আসনে কীভাবে সরাসরি নির্বাচন করা যায়, সেই পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনায় নারী আসন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নারীর প্রত্যাশার বাইরে। এটা হতাশাজনক। ৫১ শতাংশ নারীর প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে জুলাই সনদ হলে, নারীর কণ্ঠ বাদ দিয়ে জুলাই সনদ হলে, সেই সনদ নারীদের কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।

নারীর রাজনৈতিক ফোরাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250