ছবিসূত্র: রয়টার্স
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান কার্যালয়ে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা জাতিসংঘের পতাকা নামিয়ে সেখানে ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করে এবং দপ্তরের ভেতর থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানান, গতকাল সোমবার (৮ই ডিসেম্বর) ভোরে ইসরায়েলি পুলিশ পৌরসভার কর্মকর্তাদের নিয়ে জোর করে কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে।
ইসরায়েল বলছে, সংস্থাটি বকেয়া কর পরিশোধ না করায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, সংস্থাটি বেশ কিছুদিন ধরে ভবনটি ব্যবহার করছে না—কারণ এর আগেই ইসরায়েল কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছিল। সংস্থাটি পুরো ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ভবনটি এখনো জাতিসংঘের সম্পত্তি এবং সেখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যায় না। তিনি ইসরায়েলকে দপ্তরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
জেরুজালেম পৌরসভা বলছে, ইউএনআরডব্লিউএর ১ কোটি ১০ লাখ শেকেল বকেয়া কর রয়েছে এবং বহুবার সতর্ক করার পরও তারা কর দেয়নি। তাই কর বিভাগ ভবনে প্রবেশ করে।
তবে সংস্থার মুখপাত্র জোনাথন ফাউলার বলেন, ভবনটি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কমপাউন্ড, তাই কোনো কর বকেয়া থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাতিসংঘের সম্পত্তি সুরক্ষিত।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইউএনআরডব্লিউএ-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে। সরকারি মুখপাত্র শশ বেদ্রোসিয়ান আবারও দাবি করেন, ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় হামাসের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি ৭ই অক্টোবর হামলায় অংশ নেওয়া হামলাকারীদের অনেকেই নাকি ইউএনআরডব্লিউএ স্কুলের ছাত্র ছিল।
ইউএনআরডব্লিউএ কয়েকজন কর্মীকে বরখাস্ত করলেও বলেছে, ইসরায়েল সব অভিযোগের প্রমাণ দেয়নি। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যাতে সংস্থাটির কার্যক্রম দেশে নিষিদ্ধ করা হয়।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন