ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামী আরো শক্তিশালী হলে প্রকৃত ‘গুপ্ত’ কারা, সেটাও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘‘অন্যকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের ঘরটা পরিষ্কার করাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন কিন্তু জরুরি কাজ বিএনপির।’’
আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, ‘গুপ্ত নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে তো কাল রক্তারক্তি হলো, যেটার ঢেউ গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবতা অন্য জায়গায়।’
তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি প্রায়ই জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে তিরস্কার করে। কারণটা অবশ্যই স্পষ্ট, বিগত দিনের আওয়ামী লীগের ছায়ায় বিশেষ করে ছাত্রলীগে গুপ্ত হয়ে ছাত্রশিবির রাজনীতি করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো- বিএনপি-ছাত্রদলের ভেতরে যারা লুকিয়ে আছে, তাদের কি তারা সত্যিই চিহ্নিত করতে পেরেছে? অতীতে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির আগের সময়গুলোতেই দেখা গেছে, এমন অনেক ‘গুপ্ত’ হঠাৎ করেই সামনে চলে আস ’’—মন্তব্য করেন তিনি।
আনিস আলমগীর বলেন, ‘‘রাজনীতির বাস্তবতা হলো- যখন কোনো শক্তি সংগঠিত হয় এবং প্রভাব বাড়ায়, তখন তার অনুসারীরা আর আড়ালে থাকে না, নিজেরাই প্রকাশ্যে আসে। জামায়াত আরো শক্তিশালী হলে প্রকৃত ‘গুপ্ত’ কারা, সেটাও স্পষ্ট হয়ে উঠবে- তিরস্কার করে নয়, বাস্তবতার চাপে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অন্যকে দোষারোপ করা নয়। আগে নিজেদের ভেতরের লুকানো প্রভাব চিহ্নিত করা, বিএনপির প্রত্যেকটা পেশাজীবী সংগঠনে এখনো গুপ্তরা রাজত্ব করছে। সংগঠনের ভেতরে স্বচ্ছতা আনা এবং আদর্শিক অবস্থান পরিষ্কার করা।’’
এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী রাশেদ মাহমুদ লিখেছেন, “তিনি যেটা বলেছেন, সেটা রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।” অন্যদিকে সাবিহা নাসরিন মন্তব্য করেন, “গুপ্ত নিয়ে কথা বলার আগে সব দলকেই নিজেদের ভেতরটা দেখতে হবে।”
আরেক ব্যবহারকারী তানভীর হাসান লেখেন, “এটা নতুন কিছু না, তবে এখন খোলামেলাভাবে আলোচনা হচ্ছে—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।” মাহি রহমান নামে একজন লিখেছেন, “এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াবে, সমাধান দেবে না।” পোস্টটি ঘিরে সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ‘গুপ্ত’ ইস্যুটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন