বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

‘গুপ্ত’ নিয়ে ক্ষিপ্ত হওয়ার কী আছে—প্রশ্ন মাসুদ কামালের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬

#

ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলছেন, গত মঙ্গলবার ‘ছাত্র রাজনীতি’, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিয়ে যে সংঘাতের যাত্রা শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে, তার ধারণা এটি খুব শিগগিরই সারাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সংঘাত আদৌ কতটা জরুরি ছিল এবং কেন এর জন্ম হচ্ছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’য় প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।

মাসুদ কামাল বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর কথা বলছেন এবং বিভিন্ন স্থানে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে ‘গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করতে হবে’—এমন আহ্বান জানাচ্ছেন।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ কি এমন কোনো বিষয়, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বা ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ থাকতে পারে? যদি কেউ ‘ছাত্র রাজনীতি’ শব্দটি কেটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখেন, তাতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিচলিত হওয়ার কী কারণ থাকতে পারে?

মাসুদ কামাল বলেন, তার পর্যবেক্ষণে ছাত্রশিবিরের একটি অংশ এ বিষয়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে কেন তারা ক্ষিপ্ত—সেটি তার কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, “তারা কি নিজেদেরকে গুপ্ত রাজনৈতিক দল মনে করে? সেটি তো নয়।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে এমন সময় ছিল, যখন শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রলীগের পরিচয়ে ছাত্রশিবিরের কিছু সদস্য রাজনীতি করতেন—এমন অভিযোগও প্রচলিত ছিল। সেটি যদি কৌশল হয়ে থাকে, তাহলে সেটি স্বীকার করতেও তাদের সমস্যা থাকার কথা নয়।

“তারা বলতে পারে, টিকে থাকার স্বার্থেই এটি ছিল তাদের কৌশল। না হলে হয়তো টিকে থাকা সম্ভব হতো না,”—যোগ করেন তিনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ফেসবুক ব্যবহারকারী রাশেদ মাহমুদ লিখেছেন, “গুপ্ত রাজনীতি নতুন কিছু নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা, যা এখন প্রকাশ্যে আসছে।” আরেক ব্যবহারকারী নুসরাত জাহান মন্তব্য করেন, “যদি কেউ নিজেকে গুপ্ত না মনে করে, তাহলে ‘গুপ্ত’ শব্দে এত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কী আছে?”

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। আব্দুল্লাহ আল নোমান নামে এক নেটিজেন লেখেন, “এভাবে একটি শব্দকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করা অপ্রয়োজনীয়। এতে ক্যাম্পাস রাজনীতি আরও অস্থির হতে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ইস্যুটি এখন কেবল একটি শব্দগত বিতর্ক নয়; এটি রাজনৈতিক অবস্থান, পরিচয় ও অতীত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্র তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মাসুদ কামাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250