শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলেজের নবীনবরণে ‘গানের কনসার্ট’ বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের *** ইরান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে, দাবি ট্রাম্পের *** দেশে সাংবাদিকদের আত্মহত্যার ঘটনা বেশি কেন *** ব্রিকস যৌথ ঘোষণায় সম্মতি নেতাদের, একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে জোট *** ডিএনসিসির ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসের স্টল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী *** আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী *** ফরিদপুরে কার্টনে ভরা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার *** টুইন টাওয়ার থেকে লাফিয়ে পড়া সেই মানুষটি কে, ‘দ্য ফলিং ম্যান’ নিয়ে ২৫ বছরেও রহস্য *** কিশোরগঞ্জে গর্ভে থাকতেই চার শিশু বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ *** তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘শফিকুর রহমানের হুমকি উদ্বেগজনক, দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর’

শুভ্র বড়ুয়া

🕒 প্রকাশ: ১০:০৭ অপরাহ্ন, ২৫শে জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। তার মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের লক্ষ্যে রাজপথে নামার যে ঘোষণা জামায়াত দিয়েছে, তা শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াবে না, বরং দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সামগ্রিক ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত ‘জুলাই চার্টার ইমপ্লিমেন্টেশন: গ্রোয়িং ডিস্ট্যান্স বিটুইন বিএনপি অ্যান্ড দ্য অপোজিশন ইজ ওয়ারিসাম’ শিরোনামের উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম এসব মন্তব্য করেন।

উপসম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কারণ, এই স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সুশাসনের ভবিষ্যৎ। এমন বাস্তবতায় সরকার পতনের আন্দোলনের হুমকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

মাহফুজ আনামের ভাষায়, ‘আজ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এই স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সুশাসন। এমন এক অবস্থার মধ্যেই সম্প্রতি জামায়াতের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তারা সরকার পতনের লক্ষ্যে রাজপথে নামবেন। আমরা এ ধরনের হুমকিকে উদ্বেগজনক মনে করি। এ ধরনের অবস্থান গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং সার্বিকভাবে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।’

তবে উপসম্পাদকীয়তে তিনি শুধু জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করেননি; জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিএনপির ভূমিকাও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের প্রশ্ন নয়, বরং এর সঙ্গে জনগণের আকাঙ্ক্ষাও জড়িত।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংলাপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ, তাদের জোটসঙ্গী এবং জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনার টেবিলে আনা হয়েছিল, যা ছিল একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

মাহফুজ আনাম লিখেছেন, কয়েক মাসের আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রণীত হয় এবং ২৬টি রাজনৈতিক দল তাতে স্বাক্ষর করে। পরে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন। এই আদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন এবং যেসব সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে গণভোট আয়োজনের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

উপসম্পাদকীয়তে বিএনপির প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল বিএনপি ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। এতে সাতজন বিএনপির, পাঁচজন অন্য রাজনৈতিক দলের এবং পাঁচজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জামায়াত সময় চাইলেও পরে ১৬ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আমির ঘোষণা দেন, তারা ওই কমিটিতে যোগ দেবেন না। এরপর ১৩ জুলাই শাসক দল জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস করে।

এই প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আনামের মত, জামায়াতের উচিত তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া। তার যুক্তি, বাইরে থেকে সমালোচনা করার চেয়ে কমিটির ভেতরে থেকে মতামত দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আপত্তি জানানো বেশি কার্যকর হতে পারে।

তিনি লিখেছেন, যদি বিশেষ সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম জামায়াতের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তারা বিরোধিতা করতে পারে, এমনকি প্রয়োজনে কমিটি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে জনগণকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করার সুযোগও তাদের থাকবে। কিন্তু কমিটি কীভাবে কাজ করবে, তা না দেখেই অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা অন্যদের ওপর নিজেদের অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার মতো বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপসম্পাদকীয়র শেষাংশে মাহফুজ আনাম শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার মতে, তা না হলে দেশে আবারও অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও মনে করেন, বড় ধরনের সাংবিধানিক সংস্কার বা রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে অংশীজনদের সংলাপে ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি আলোচনার বাইরে থাকে, তাহলে মতপার্থক্য আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আবার অন্যদিকে, রাজনৈতিক মতভেদ প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও সরকার পতনের হুমকির মতো বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। সে কারণে সংলাপ, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য অধিক কার্যকর পথ বলে তারা মনে করেন।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250