সোমবার, ১৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মওদুদ আহমদের সেই লেখা প্রসঙ্গে যা জানালেন নঈম নিজাম *** ক্ষমতায় এলেও তারেক রহমানের সামনে যে ‘বিপদ’ দেখছেন মাহফুজ আনাম *** তারেক রহমানকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি *** ‘ধর্মীয় পরিচয় এড়িয়ে প্রথাবিরোধী পরিচিতি তুলে ধরছে জামায়াত’ *** সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান *** জামিনের পরও ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ নিয়ে উদ্বেগ, আইনের শাসনের জন্য ঝুঁকি দেখছেন বার্গম্যান *** রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা, আটক ১ *** লালমনিরহাটের ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্টের’ কথোপকথনের অডিও ভাইরাল *** এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল *** দলীয় পদে থাকা কারাবন্দী ও মামলার শিকার সাংবাদিকদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে

রাজশাহীতে ফের লিটন, সিলেটে নতুন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:৪০ অপরাহ্ন, ২১শে জুন ২০২৩

#

বিজয়ের পর হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান রাজশাহীতে আবার নির্বাচিত মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন (বাাঁয়ে) এবং সিলেটের নতুন নগরপিতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী

বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোটযুদ্ধ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে রাজশাহীর আগের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ওপরই আস্থা রেখেছেন নগরবাসী। আর সিলেটবাসী নতুন নগরপিতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে।

তবে বিএনপির না থাকা এবং সর্বশেষ খুলনা ও বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোট বর্জন করায় ভোটে তেমন উত্তাপ ছিল না। শঙ্কা ছিল ভোটার উপস্থিতিও কম হবে। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে রাজশাহীতে ৫২ শতাংশ আর সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪৬ শতাংশ।

এ অবস্থায় দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দুই সিটির নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

খায়রুজ্জামানে আস্থা রাজশাহীবাসীর

রাজশাহী সিটিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। সিটি নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটের বেসরকারি ফলে রাজশাহী সিটির মেয়র হয়েছেন নৌকার প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন। এর মধ্যদিয়ে তৃতীয়বারের মতো এবং টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সিটির দায়িত্ব লিটনের হাতে তুলে দিলেন রাজশাহীবাসী।বুধবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। পরে রাজশাহীর শিল্পকলা একাডেমিতে সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী নৌকা প্রতীকে লিটন পান ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুরশিদ আলম ১০ হাজার ৬৬৭ ভোট পান।

ভোটে জিতে টানা দুবার এবং সব মিলে তিনবার মেয়রের চেয়ারে বসছেন খায়রুজ্জামান লিটন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় পান লিটন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হেসেন বুলবুল। লিটন নৌকা প্রতীকে পান ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬ ভোট। আর বিএনপির মোসাদ্দেক হেসেন বুলবুল ধানের শীষ প্রতীকে পান ৭৭ হাজার ৭০০ ভোট। ভোট পড়েছিল ৭৮. ৮৬ শতাংশ।

তবে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় শুরু থেকেই নির্বাচন ছিল অনেকটাই নিরুত্তাপ। মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন চারজন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুরশিদ আলম (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার (গোলাপ ফুল)। তবে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছেন।

খুলনা ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী আন্দোলন ভোট বর্জন করায় অনেকটা নির্ভার ছিলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন।

তবে শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি বাড়ে। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ৫২ শতাংশ ভোট পড়ে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

এবার ২৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১১১ জন। একটি ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৪৬ জন প্রার্থী। এখানে ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ছয়জন। তৃতীয় লিঙ্গের একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীও রয়েছেন।

১৫৫টি কেন্দ্রে ইভিএমে সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। ভোটকক্ষ ছিল ১১৫৩টি। ১৪৬৩টি ক্যামেরার মাধ্যমে রাসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ মনিটরিং করা হয়।

সিলেটবাসী পেলেন নতুন নগরপিতা

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এ নেতা দায়িত্ব পেয়ে সিলেটকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেবেন- এমনটাই আশা জেলার বাসিন্দাদের।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়ে নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩২১।

বুধবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের নগরীর উপশহরের জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে ফল প্রকাশ করেন। এদিকে আনোয়ারুজ্জামানের জয়ে প্রায় ১০ বছর পর সিলেটের নগরপিতা হলেন আওয়ামী লীগের কোনো নেতা। দলটির সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ২০০৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সিলেটের নগরপিতা ছিলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বড় ধরনের কোনো সংঘাত ছাড়াই অনেকটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিকেল ৪টায় শেষ হয় নির্বাচন। পরে ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ওরফে বাবুলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। মাওলানা মাহমুদুল হাসান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হলেও দলটি ভোট বর্জন করেছে।

মেয়র পদে আরও লড়েছেন জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম এবং স্বতন্ত্র মো. আবদুল হানিফ (কুটু), মো. ছালাহ উদ্দিন (রিমন), মো. শাহ্ জামান মিয়া ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা।

আইকেজে/

 

Important Urgent

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250