সোমবার, ১৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মওদুদ আহমদের সেই লেখা প্রসঙ্গে যা জানালেন নঈম নিজাম *** ক্ষমতায় এলেও তারেক রহমানের সামনে যে ‘বিপদ’ দেখছেন মাহফুজ আনাম *** তারেক রহমানকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি *** ‘ধর্মীয় পরিচয় এড়িয়ে প্রথাবিরোধী পরিচিতি তুলে ধরছে জামায়াত’ *** সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান *** জামিনের পরও ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ নিয়ে উদ্বেগ, আইনের শাসনের জন্য ঝুঁকি দেখছেন বার্গম্যান *** রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা, আটক ১ *** লালমনিরহাটের ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্টের’ কথোপকথনের অডিও ভাইরাল *** এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল *** দলীয় পদে থাকা কারাবন্দী ও মামলার শিকার সাংবাদিকদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে

চীনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে হুমকির মুখে ভারতের সার্বভৌমত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০২:১৪ অপরাহ্ন, ২০শে জুন ২০২৩

#

চীনের চ্যাট এবং ওয়ালেট এপ্লিকেশনের মাধ্যমে হুমকির মুখোমুখি ভারতের সার্বভৌমত্ব। পিআরসি এই মাধ্যমগুলোকে শুধু ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার জন্যই ব্যবহার করছে না বরং ভারতের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার কাজেও ব্যবহার করছে। ওয়ালেটগুলো আরবিআই বা এসইবিআই এর মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজান্তেই বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করতে পারে। এই প্রতিবেদনে ভারতে সিসিপির এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিশদ বিবরণ রয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নাটকীয় উত্থান এখন বিশ্বের জন্য আরও গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিআরসি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, এবং পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সংস্থানসহ, এর চ্যালেঞ্জ আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। বিশ্ব দেখছে কীভাবে পিআরসি-এর ঋণ ফাঁদ কূটনীতি অসংখ্য দেশকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে এবং কীভাবে এটি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি সম্প্রসারণবাদী অবস্থান নিয়েছে। তাছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারও করছে পিআরসি। ডেটা চুরি, বিভ্রান্তি এবং ভুল তথ্য প্রচারের মতো কৌশলগুলো ব্যবহার করে অন্য দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থার ক্ষতি করতে তার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে পিআরসি। সাম্প্রতিক সময়ে, প্রযুক্তিকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) অর্থ পাচার এবং অবৈধ তহবিল স্থানান্তরের জন্যও ব্যবহার করছে।

১। পিআরসি এর প্রযুক্তিগত যুদ্ধ

পিআরসি এর প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে কারো মনে কোনও সন্দেহ নেই। তেমনি এটি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিআরসি ভিত্তিক ডিজিটাল এপ এবং ওয়েবসাইটগুলো ডেটা চুরি ও ভুল তথ্য ছড়ানোর দায়ে একাধিকবার অভিযুক্ত হয়েছে। 

২। উইচ্যাটের মাধ্যমে হামলা

২০১১ সালে যখন পিআরসি উইচ্যাট বাজারে আনে তখন এটি ছিল সাধারণ মেসেজিং এপ। তবে দ্রুত এটি মেগা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। পাবলিক সোশ্যাল মিডিয়া, খাদ্য সরবরাহ পরিষেবা, উবার বা লিফট-এর মতো ফাংশন, বন্ধুদের কাছে অর্থ স্থানান্তর, মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচী, বিল পরিশোধ, ব্যবসায়িক বৈঠক পরিচালনা এবং সরকারী পরিষেবাগুলোও এখন এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। এপটির একচেটিয়া প্রসারণের সাথে সাথে এটি চীনা জনগণের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। তবে এত সুবিধার মধ্যে এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। সিসিপি এ এপের কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করে। উইচ্যাটে ব্যবহৃত চ্যাট এবং ছবি সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করতে পারে সিসিপি।

তাছাড়া উইচ্যাট ভুল তথ্য প্রচার এবং ডেটা চুরির অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। 

৩। উইচ্যাট নিয়ে ভারতের উদ্বেগ

নিঃসন্দেহে ভারত সরকার পিআরসি প্রচারিত এপগুলোর উপর কঠোর হয়েছে এবং কয়েকটি এপ নিষিদ্ধ করা সহ সেগুলো পরীক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু তবুও, কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেকগুলো এপই ভারতে কাজ করে চলেছে।

নতুন ব্যবহারকারীরা মূলত আর উইচ্যাট ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু কারো কাছে যদি নেপাল বা অন্যদেশের সিমকার্ড থাকে তবে তার মাধ্যমে সে অতি সহজেই উইচ্যাট ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে হাজার হাজার ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পিআরসি এর সাথে ব্যবসা করছে। তাদের সকলেরই বর্তমানে সক্রিয় উইচ্যাট অ্যাকাউন্ট রয়েছে যেগুলো তারা ভিপিএন এর মাধ্যমে ব্যবহার করছে। এ এপের মাধ্যমে সহজেই অর্থ আদান প্রদান করা যায়৷ ভারতে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা প্রায়শই চীনা ডিলার এবং বিক্রেতাদের সাথে ব্যবসা করে। তবে এর মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরএমবির ব্যবহার বাড়ছে। যদি কেউ পিআরসি থেকে তাদের ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পায়, তাহলে তারা সহজেই তা ভারতীয় রুপিতে রূপান্তরিত করতে পারে। তাছাড়া ভারতীয়রা আলিপেও ব্যবহার করছে। 

শুধু ১০ টি উইচ্যাট অ্যাকাউন্ট এক দিনে মোট ৫ লক্ষ আরএমবি (বা প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা) পেতে পারে, যা দেশ ও দেশের রাজস্ব খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। 

উইচ্যাট বিশেষত মানি লন্ডারিং, প্রতারণা ও ব্যাপক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া ভারতে আরএমবি লেনদেন এ দেশের আর্থিক স্বাধীনতার জন্যেও ক্ষতিকারক। 

তাই কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত। যেমন, ভারতীয় মাটিতে আরএমবি-এর ব্যবহার, উইচ্যাট পে, আলীপে বা অন্য কোনও পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই হোক না কেন, দেশের আর্থিক সার্বভৌমত্ব এবং ভারতীয় রুপির মতো একমাত্র সরকারী মুদ্রার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

সোশ্যাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল-ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট প্রোভাইডার আইনগুলোকে অবশ্যই প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে চালাতে হবে। যতটা সম্ভব, ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকাকালীন আরএমবি-এর পরিবর্তে আইএনআর-এর মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের লেনদেন করা উচিত, অথবা অন্ততপক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের সমস্ত সন্দেহজনক লেনদেনের কার্যকলাপের বিষয়ে রিপোর্ট করা উচিত। মানি লন্ডারিং বিরোধী আইন অবিলম্বে উন্নত করে বাস্তবায়ন করা উচিত। 

তাছাড়া পিআরসি পেমেন্ট ওয়ালেট সফটওয়্যার ভারতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে লেনদেনের সাথে জড়িত থাকা ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

পিআরসি এর ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাছ থেকে বাঁচতে হলে ভারতকে অবশ্যই তার ডেটা এবং মৌলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র: রেড লেন্টার্ন এনালিটিকা

আই. কে. জে/ 

Important Urgent

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250