রবিবার, ১৫ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চলে গেলেন জার্মানদের ইহুদি গণহত্যার দায় নিতে শেখানো দার্শনিক হাবারমাস *** বাংলাদেশ-তুরস্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সমরাস্ত্র-জ্বালানি-বাণিজ্যে জোর *** ‘হাজী শরীয়ত উল্লাহর বংশধর হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ *** ‘শাহরিয়ার কবির আমাকে মধ্যরাতের রাজাকার বললতেন, তবুও তার মুক্তি চাই’ *** ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর *** আমস্টারডামে ইহুদি স্কুলে বিস্ফোরণ *** ‘জামায়াত-এনসিপি অসভ্যতা করবে, এটাই স্বাভাবিক’ *** হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে ‘সাহায্যকারী’ ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার *** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী

ঢাকার ভেতরেই এক টুকরো গ্রাম, ঘুরে আসতে পারেন শান্তি গ্রামে

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, ১৬ই জুন ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র যানজট। উষ্ণ শহর। বাইরে বেরোলে মনমেজাজ তিরিক্ষি হওয়ার জোগাড়। কোথায় মেলে শান্তির পরশ? চলুন তবে, একবার শান্তি গ্রামে ঢুঁ মেরে আসি।

কী ভাবছেন? শহরের ভিড় পেরিয়ে, নানান রকম দায়িত্ব ফেলে রেখে গ্রামে যাওয়ার সময় কীভাবে পাবেন? নাহ, শহরের বাইরে যাওয়ার কথা বলছি না। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একেবারে শহুরে ভিড়বাট্টার মাঝেই এক রেস্তোরাঁর নাম শান্তি গ্রাম।

রেস্তোরাঁর অন্দরজুড়েই খুঁজে পাবেন গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে। একটা পাশ একেবারেই খোলামেলা। সেখানটায় ঝলমলে রোদ্দুর। ওহ, আজ তো পয়লা আষাঢ়। বৃষ্টির সময়টায় অঝোর বর্ষণও তো নেমে আসতে পারে সেখানটায়। বৃষ্টি যদি নেমেই যায় ঝুম বর্ষায় খিচুড়ি তো জম্পেশ।

প্রকৃতি যখন অন্ধকার, তখন অবশ্যই অন্দরের কৃত্রিম আলোয় সময় কাটাতে হবে। তবে ঝুলন্ত ল্যাম্প শেডগুলোতেও রয়েছে বেতের সংমিশ্রণ। তাই প্রকৃতিকে অনুভব করতে পারবেন যেকোনো সময়ই। ঝুলিয়ে দেওয়া গাছের লতার দোলায় মনে আসে প্রশান্তি। মাটির জলাধারেও আছে জলজ উদ্ভিদ আর খুদে মাছের দল।

মেঝেতে অন্দরসজ্জার জমকালো কারুকাজ নেই। খালি পায়ে সাদামাটা মেঝেতে হেঁটেই উপভোগ করতে পারবেন আদিমতার পরশটুকু।

পরিবেশন পাত্রের অধিকাংশই প্রকৃতি থেকেই নেওয়া। বাটি, গ্লাস, ট্রে এমনকি স্ট্রগুলো পর্যন্ত বাঁশের তৈরি। দৃষ্টিনন্দন পানীয়ের জন্য অবশ্য রয়েছে কাচের জার। কোস্টারগুলো পাটের। বাঁশ দিয়ে গড়া টেবিল আর টুল অন্দরে এনেছে ভিন্নরূপ। ধাতব কাঠামোর ওপর কাঠের পরত বসানো টেবিল আর টুলগুলোও বেশ। মন চাইলে কাঠের পাটাতনের দোলনায় একটু দোলও খেতে পারবেন। লম্বা বেঞ্চও আছে।

দরজা-জানালা আর দেয়ালের হালকা নকশার আলপনায় গ্রামের পাবেন গ্রামের ছোঁয়া। বাঁশের পাত্র সাজানো আছে এক দিকে। নকশিকাঁথায় বাংলাদেশের মানচিত্র, বাঁধানো নকশিকাঁথা আর শুকনা পাতায় সেলাইয়ের কাজে বাংলা বর্ণের উপস্থিতিতে ফুটে উঠেছে বাঙালিয়ানা। আর তাতেই অনন্য এ অন্দর। বাইরের দিকে মেঝেতে শতরঞ্জি বিছানো জায়গায় বসে খাওয়ার সুযোগও আছে।

২০২২ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে শান্তি গ্রাম। সারওয়াত সামিন আর বিস্কুটের সম্মিলিত এ প্রয়াস বেশ সাড়া ফেলেছে নগরবাসীর মধ্যে। সারওয়াত সামিন ভ্রমণপিপাসু মানুষ, লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। রিকশাচিত্রের মতো ঐতিহ্যবাহী শৈল্পিক কাজে নিবেদিতপ্রাণ বিস্কুটের ভাবনা থেকে দুই বন্ধুর এই উদ্যোগের সূচনা।

পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগে প্লাস্টিক উপকরণের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা হয়। বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ দিতে সচেষ্ট থাকাটাই যেন তাঁদের এক নিরন্তর সংগ্রাম। তাঁদের খাবারে ব্যবহার করা হয় হাতে তৈরি মাখন, বিশুদ্ধ ঘি। নিজেদের তত্ত্বাবধানে ভাঙানো মসলা দিয়ে শান্তি গ্রামের রান্না হয়। শুধু খাবারই নয়, ক্রেতাদের মানসম্মত সেবাটাও দিতে চান তাঁরা।

আরও পড়ুন: মরুভূমির বিশাল হাত!

সারওয়াত সামিনের মা নিজ হাতে রান্নার কাজগুলো গুছিয়ে দেন। রান্নার প্রথম ধাপ হয়ে যায় শান্তি গ্রামের কাছেই, তাঁর বাড়িতে। বাকি প্রক্রিয়া চলে শান্তি গ্রামে। বাঙালি খাবারগুলোকে ফিউশন আঙ্গিকে পরিবেশন করা হয় এখানে। আচারি খিচুড়ির সঙ্গে তন্দুরি ফ্লেভারের মুরগির সমন্বয়টা দারুণ।

তাওয়া নান কিংবা লুচিও খেয়ে দেখতে পারেন। উষ্ণ কিংবা শীতল পানীয়ও নিতে পারেন। মাশরুম পিঠা, পনির পিঠা কিংবা কলিজার স্যান্ডউইচের মতো ভিন্ন ধাঁচের খাবারও মিলবে সেখানে। অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশিত হবে উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় খাবার মাষকলাইয়ের রুটিও। গত শীতে পিঠা উৎসবও হয়েছে। ছিল ২৫ রকম পিঠার আয়োজন।


রেস্তোরাঁ খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ। ঠিকানা: বাড়ি ৩৬, ধানমন্ডি ৯/এ, ঢাকা। রেস্তোরাঁটি ভবনটির নিচতলাতেই, যেতে হবে বুটিক হাউস ‘খুঁত’-এর ভেতর দিয়ে।


এসি/আইকেজে 


ঢাকা গ্রাম শান্তি গ্রামে

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250