শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন কেন, আজ দেখানো হবে টেলিছবিতে *** শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত মিলে নেবে—আশা যুক্তরাষ্ট্রের *** সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের *** জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন *** যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনায় যা আছে *** বন্দুকের ভঙ্গিতে উদযাপন করে লালকার্ড দেখলেন ইসরায়েলি ফুটবলার *** ‘আমলাদের লেখা আইনের খসড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে’ *** জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার *** জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবার কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেই *** পাকিস্তান সফরে কবে যাবেন—জবাবে সাংবাদিকদের যা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুখবর এক্সপ্লেইনার

এআই কি শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে, যা বলছেন কানাডীয় অর্থনীতিবিদ

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, ১১ই আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় আশঙ্কাগুলোর একটি হলো—এটি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে। তবে অর্থনীতিবিদ জ্যঁ-লুই আরকাঁর বিশ্লেষণ বলছে, এআইয়ের প্রভাব এতটা সরল নয়। কোনো একটি কাজ থেকে শ্রমিকের প্রয়োজন কমলেও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার অন্য ধাপে তাদের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। ফলে সঠিক জায়গায় এআই ব্যবহার করা গেলে এটি শ্রমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সহায়কও হতে পারে।

কানাডার অর্থনীতিবিদ জ্যঁ-লুই আরকাঁ গতকাল সোমবার ঢাকায় সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং—সানেম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তার গবেষণার কথা তুলে ধরেন। ব্র্যাক সেন্টারের ওই আলোচনায় তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় যেসব কাজ সবচেয়ে বড় বাধা তৈরি করছে, প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভবত সেসব কাজেই আগে এআই ব্যবহার করবে। এতে একটি জায়গার সমস্যা দূর হলে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার অন্য অংশের দক্ষতা বাড়তে পারে। তখন সেখানে শ্রমিকের চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরকাঁর গবেষণার ভিত্তি অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমারের ‘ও-রিং’ মডেল। এই মডেল অনুযায়ী, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন কাজ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সামান্য ভুল হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ক্ষতি হতে পারে। ১৯৮৬ সালের চ্যালেঞ্জার মহাকাশযান দুর্ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানো হয়। তুলনামূলক কম দামের একটি ‘ও-রিং’-এর ত্রুটিও কীভাবে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে, সেই ঘটনা এই তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আরকাঁর যুক্তি হলো, এমন গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দুর্বল জায়গাগুলোতে এআই ব্যবহার করে ভুলের ঝুঁকি কমানো গেলে পুরো উৎপাদনব্যবস্থার দক্ষতা বাড়তে পারে। ফলে কোনো একটি কাজে এআই মানুষের বিকল্প হলেও অন্য কাজে তা মানুষের কাজকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। কর্মসংস্থানে এআইয়ের চূড়ান্ত প্রভাব তাই নির্ভর করবে কোন কাজটি স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, প্রযুক্তির খরচ কত এবং মানুষের কাজের সঙ্গে এআই কতটা পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে—এসব বিষয়ের ওপর।

এই বিশ্লেষণের সঙ্গে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণারও মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও বলছে, এআইয়ের কারণে ব্যাপকভাবে মানুষের চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে বিদ্যমান কাজের ধরন বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এআই মানুষের সক্ষমতার পরিপূরক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও একই ধরনের সতর্ক আশাবাদ দেখা যায়। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের প্রভাবে পড়তে পারে। উন্নত অর্থনীতিতে ঝুঁকি বেশি হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এআইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআইকে তুলনামূলক বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এআইয়ের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে থাকা চাকরির অংশ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে তা ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে, এআই ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকা চাকরির অংশ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসও বিশ্বব্যাংকের ওই বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেয়ে তাঁদের কাজের সক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দারমিত গিলের মতে, তুলনামূলক কম খরচের এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করে এসব দেশ দক্ষ জনবলের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই বিষয়টির গুরুত্ব। দেশের বিপুল শ্রমশক্তির একটি অংশ এখনো তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত। ফলে এআই যদি শ্রমিককে সরিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের কাজের দুর্বল জায়গাগুলো পূরণ করতে ব্যবহার করা যায়, তাহলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পোশাকশিল্পে মান নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে রোগ শনাক্তকরণ, গ্রাহকসেবা, হিসাব ব্যবস্থাপনা কিংবা ছোট ব্যবসায় বাজার বিশ্লেষণের মতো কাজে এআই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে। আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এআইয়ের সুফল পাওয়ার পথে ডিজিটাল অবকাঠামোর ঘাটতি বড় বাধা হতে পারে।

জ্যঁ-লুই আরকাঁও তাই বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য কৌশলগতভাবে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, শুধু প্রযুক্তি আমদানি করলেই হবে না; উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কোথায় সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেটি চিহ্নিত করে সেখানে এআই ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশের এআই ব্যবহারের ধরন নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থাৎ এআই শ্রমিকের বন্ধু হবে, নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী—এর উত্তর প্রযুক্তির মধ্যেই নির্ধারিত নয়। সিদ্ধান্তটি অনেকটাই নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ব্যবহারের কৌশলের ওপর। শ্রমিককে বাদ দেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করা হলে তা কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হতে পারে। আর শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ানো, ভুল কমানো ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা দূর করার জন্য ব্যবহার করা গেলে একই প্রযুক্তি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ তাই এআই ঠেকানো নয়, বরং এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল শ্রমিকের কাছেও পৌঁছায়।

এআই

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন কেন, আজ দেখানো হবে টেলিছবিতে

🕒 প্রকাশ: ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত মিলে নেবে—আশা যুক্তরাষ্ট্রের

🕒 প্রকাশ: ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৯ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন

🕒 প্রকাশ: ১১:২১ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনায় যা আছে

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৩ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250