সোমবার, ২৪শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় মেয়াদে মোদির শপথ: তিস্তাসহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধানে প্রত্যাশা

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৪ অপরাহ্ন, ১১ই জুন ২০২৪

#

টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথগ্রহণকারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

৯ই জুন শপথ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে তিনি শপথ নেন। নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি এদিন নতুন জোট সরকারের ৭২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এ নিয়ে বিজেপি টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতে সরকার গঠন করল।

প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময়ও নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। বস্তুত, প্রতিবেশী দেশ ভালো না থাকলে বিশ্বায়নের এ যুগে নিজ দেশের ভালো থাকার উপায় নেই। মোদির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ যুগনৌত, মালদ্বীপের

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচন্ড এবং আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র সিচেলিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আতিফ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশটির শিল্পপতি গৌতম আদানি, মুকেশ আম্বানি, অভিনেতা শাহরুখ খান, রজনীকান্ত, অক্ষয় কুমারসহ অন্তত ৮ হাজার অতিথি।

শপথ অনুষ্ঠানের পর একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনের পাশাপাশি ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে ভারতের অবস্থান এবং অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নানা ক্ষেত্রে দুদেশের সম্পর্ক দৃঢ় হলেও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধের মতো কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আশার কথা, প্রথম মেয়াদে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই নরেন্দ্র মোদি তিস্তাসহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করে আসছেন। তৃতীয় মেয়াদে তার শপথের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্তে হত্যা বন্ধ ও অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী। এছাড়া বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক-শুল্ক বাধা দূর করাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুপক্ষই আন্তরিকভাবে কাজ করবে-এটিই প্রত্যাশা।

আই.কে.জে/

মোদির শপথ

খবরটি শেয়ার করুন