সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ২০ মাসে নদী থেকে ৯২০ মরদেহ উদ্ধার, হত্যার পর পানিতে ফেলার কৌশল কেন? *** প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি, দুই মাসে চার দেশ সফরের আলোচনা *** ক্যারিয়ারে সফলতার শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন ডা. আঁচল রায় *** জামায়াতের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নাই: ফরহাদ মজহার *** আদাবরে ভবন দখলচেষ্টা: দেড় বছরে দেড় কোটি টাকা আদায় করেছিল একই দখলদার গ্রুপ *** আরও ১০০ পিংক বাস চালুর উদ্যোগ *** ড. ইউনূস আমলে গ্রেপ্তার, জামিনের একমাস পর মৃত্যু সাংবাদিকের, কিছু প্রশ্ন *** বাংলাদেশের কিসের এত দুশ্চিন্তা *** এমবাপ্পের চোট কতটা গুরুতর *** জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সোমবার

দলীয় কার্যালয় থেকে সরকারি সার ও বীজ উদ্ধারের বিষয়ে যা বলল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২রা নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

‘ঝিনাইদহে জামায়াতের কার্যালয়ে মিলল সরকারি অনুদানের সার ও বীজ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্য জামায়াতকে দেওয়া সার ও বীজ বিতরণ শেষ করতে না পারায় ওই দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল।

বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জামায়াতের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৩১শে অক্টোবর) রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট বাজারে ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয় থেকে সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ উদ্ধার করে কৃষি বিভাগ। মধ্যরাতে খবর পেয়ে ৮ প্যাকেট শর্ষেবীজ, ৫ বস্তা ডিএপি সার, ৫ বস্তা পটাশ, ৮ কেজি শর্ষে ও ১৯ কেজি মসুরবীজ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মঞ্জুরুল ইসলাম জোয়ারদার জানান, শুক্রবার রাতে জামায়াতের সাইনবোর্ড লাগানো অফিসে সরকারি সার ও বীজের মজুত দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা ভিড় জমায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. জুনায়েদ হাবীব ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ। তারা ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে সার ও বীজের মজুত দেখতে পান এবং উদ্ধার করে ঝিনাইদহে নিয়ে যান।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী জানান, কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার বা বীজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে মজুত রাখার কোনো নিয়ম নেই। কৃষকেরা গত বুধবার উপজেলা পরিষদ থেকে প্রণোদনার সার ও বীজ গ্রহণ করেন। এ সময় তারা স্বাক্ষর করে বীজ ও সার নিয়েছেন। এগুলো ১২ কৃষককে দেওয়া হয়েছে। সেই সার ও বীজ একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে পাওয়া গেছে। এগুলো কার নামে বরাদ্দ ছিল এবং সেগুলো ওই স্থানে কীভাবে গেল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বিবৃতিতে জামায়াত দাবি করেছে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণের জন্য স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতের কাছ থেকে তালিকা নিয়েছিল।

সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন জামায়াতকে ৩০ কৃষকের মধ্যে বিতরণের জন্য শর্ষের বীজ ২২ কেজি, মসুরের বীজ ৩৫ কেজি এবং ৮ বস্তা পটাশ ও ফসফেট সার দেওয়া হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বেশির ভাগ সার ও বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট কিছু সার ও বীজ অফিসে রাখা ছিল, যা শনিবার সকালে বিতরণের কথা ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যরাতে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন তার অনুসারীদের নিয়ে সেখানে রাখা সার-বীজ উদ্ধার করার নাটক সাজিয়েছেন, যাতে জামায়াতকে ফাঁসানো যায়। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। জামায়াতের কোনো নেতা–কর্মীর সঙ্গে সরকারি প্রণোদনার অনিয়ম বা অপব্যবহারের কোনো সম্পর্ক নেই।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘তবু যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, প্রশাসন তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করুক আমরা এ দাবি জানাচ্ছি।’

জে.এস/

জামায়াতে ইসলামী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250