ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। অনেকেই এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখি নাই। তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে।’
আজ শনিবার (৩১শে জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীতে বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় সিরাজগঞ্জের ছয়টি ও পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে আপনারা লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ এখানে একত্র হয়েছেন। আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি হয়তো প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম; কিন্তু তাতে আপনাদের কোনো লাভ হতো না। বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, দেখতে চায় যে কোন রাজনৈতিক দল কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে দেশ ও জনগণের জন্য। বিএনপি আপনাদের সামনে পরিকল্পনা দিয়েছে এবং এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেই দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে, যার অভিজ্ঞতা আছে। এসব গুণ একমাত্র বিএনপির ভেতরেই আছে।’
বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষি আছে, তেমন ছোট ছোট মিল-কারখানা আছে। এই মুহূর্তে কৃষিকে যেমন আমাদের টেনে ওঠাতে হবে, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হবে, একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ–যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। যেহেতু উত্তরাঞ্চল কৃষির সঙ্গে জড়িত বেশি, সে জন্য আমরা সেই ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র উত্তরাঞ্চলে আমরা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি তাঁতের কথা বলি, আমরা যদি লুঙ্গির কথা বলি, রঙের কথা বলি, প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এই এলাকার কথা। এ এলাকার বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য আমরা ইনশা আল্লাহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হব এবং আগামী দিনে আমরা তা–ই করতে চাই।’
মা-বোনদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে সারা বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উনি একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তারপর ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি হয়ে গিয়েছে। এখন আগামী বিএনপি সরকার আপনাদের এই মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়। এ জন্যই আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা মায়েদের, গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলব ইনশা আল্লাহ।’
কৃষকদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইয়েরা সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন এবং তাঁদের পরিশ্রমের ফলেই সারা বাংলাদেশের মানুষ দুই বেলা, তিন বেলা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকেন। এই কৃষক ভাইদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, ফসলের বীজ আমরা তাদের হাতে, ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই, যাতে করে মধ্যখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া কোনো সুবিধা না পায়। সেই জন্য কৃষক ভাইদের জন্য আমরা একটি কৃষক কার্ড দিতে চাই।’
তরুণদের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তরুণ সমাজের যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা আমি বলেছি। বর্তমানে তরুণ সমাজের বহু সদস্য আছে, যারা আইটিতে কাজ করে। তাদের আমরা বিশেষভাবে ট্রেনিং দিতে চাই। একইভাবে এই এলাকার বহু মানুষ বিদেশে যায়; কিন্তু তাদের কোনো ট্রেনিং থাকে না। আমরা চাই, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করতে, যার ফলে আমরা আমাদের বেকার ভাইদের সেখানে ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠাতে চাই। যাতে তারা বিদেশে ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’
খবরটি শেয়ার করুন