ফাইল ছবি
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে ইমরানুর রহমানকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটি পূরণ হলো না। পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশের দ্রুততম মানবকে। মিনজো স্পোর্টস পার্কে আজ শুক্রবার ১০.৪৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে নিজের হিটে সপ্তম হয়েছেন তিনি। তিন হিটের ফল মিলিয়ে ২৪ জনের মধ্যে ইমরানের অবস্থান ২১তম।
সেমিফাইনালের প্রথম হিটে ৯ নম্বর লেনে দৌড়েছেন ইমরান। শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই ছিলেন। কিন্তু দৌড়ের মাঝপথে, বিশেষ করে ৬০ মিটার পেরোনোর পর, বাকিদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন তিনি। তার হিট থেকে প্রথম দুজন সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। ৯.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে থাইল্যান্ডের পুরিপোল বুনসন গড়েছেন এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড।
গতকাল প্রাথমিক রাউন্ডে ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় করেছিলেন ইমরান। এক দিন পর সময় কিছুটা কমিয়ে ১০.৪৪ করলেও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। দৌড় শেষে ইমরানের কণ্ঠে ছিল হতাশা, ‘বছরের সবচেয়ে বাজে রেস ছিল এটা, নানা কারণে। তবে এমনটা হয়। আর যা-ই হোক না কেন, আমাকে এখান থেকে সামনে এগোতে হবে। আর কী-ই বা বলব... হ্যাঁ, আমি সত্যিই হতাশ।’
ইমরানের ব্যক্তিগত সেরা সময় ১০.১১ সেকেন্ড। চলতি মৌসুমে তার সেরা ১০.২৪। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে দুটির কোনোটির কাছাকাছিও যেতে পারেননি তিনি। এর পেছনে নিজের দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার বিষয়টিকেই সামনে আনছেন এই স্প্রিন্টার, ‘সব সময় তো আর মনের মতো হয় না। প্যারিসের পর দু’বছর ইনজুরিতে থাকার পর এটাই আমার ফেরার প্রথম বছর। তাই আমাকে ইতিবাচক দিকটাই দেখতে হবে। অন্তত আমার অবস্থা আরও খারাপ হয়নি। তবে আরও ভালো টাইমিং করার চেষ্টা করা উচিত ছিল।’
ইমরানুরের সামনে বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ এশিয়ার শীর্ষ স্প্রিন্টারদের সঙ্গে ব্যবধানটা কমানো। এশিয়ান পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সেই কঠিন বাস্তবতাও তিনি মেনে নিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘ওরা বলতে গেলে এশিয়ার সেরা। আমি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছি, আর আজকের দিনে এটাই ছিল আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা। আজ আমি এর চেয়ে ভালো দিতে পারতাম না, তবে তা যথেষ্ট ছিল না—আমি আমার আসল মান বা দক্ষতা দেখাতে পারিনি।’
খবরটি শেয়ার করুন