বৃহস্পতিবার, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ওয়ালটন হাই-টেকের ১৮০% নগদ ও ১০% স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ *** উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংক-কমিউনিটি ব্যাংক চুক্তি *** বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বরখাস্ত ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের *** সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় নির্বাচন দাবি *** ঘুষের অভিযোগে অপসারিত বিচারপতি জামায়াতে, ২২ বছর পর ফিরল সেই বিতর্ক, প্রশ্ন ‘পাপমুক্তির’ রাজনীতি নিয়ে *** ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলন করলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী *** ‘১৭ বছর বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন যুবলীগ নেতা, এখন তার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র’ *** চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস *** মাদ্রাসার জন্য পাকিস্তানে ভাঙা হলো ১০০ বছরের পুরোনো মন্দির *** জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় নির্বাচন দাবি

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নতুন করে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তার দাবি, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে। সাংবাদিক কেশব পদ্মনাভন সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর দ্য প্রিন্টে ‘হাসিনার তারেককে চ্যালেঞ্জ—আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিন, বাংলাদেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন’ শিরোনামে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। এতে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা করবেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গভীর জাতীয় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষ্য, দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর বন্ধ হয়ে গেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সংখ্যালঘুরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। বিচারব্যবস্থাকেও রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিষয়টি এখন আর শুধু আওয়ামী লীগের নয়। এটি জাতীয় সংকট। তার দাবি, আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি এবং দলটির লাখ লাখ সমর্থককে স্বাভাবিক রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এত বড় একটি জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে দেশে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়।

এ কারণেই তিনি বর্তমান সরকারকে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য, বিএনপি যদি সত্যিই মনে করে যে তাদের জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে, তাহলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে হবে। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর সব পক্ষের অংশগ্রহণে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তার মতে, এ ধরনের নির্বাচনই প্রকৃত গণতান্ত্রিক বৈধতা দিতে পারে।

তবে শেখ হাসিনার এই নির্বাচনের দাবির সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কও রয়েছে। তার সরকারের সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি নির্বাচন নিয়েই দেশে-বিদেশে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ নেয়নি। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনীত হন। ভোটের দিন সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছিল, প্রধান বিরোধী দলের বর্জনের কারণে নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই অনুমিত ছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও ব্যাপক বিতর্ক হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটের আগে প্রার্থী মনোনয়ন, প্রচার এবং ভোটের দিন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করা হয়েছিল। ভোটের দিন বিরোধী জোটের ৪০টির বেশি প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেয়নি। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, এটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে বিরোধী দলের হাজারো নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এবং ভোটের দিন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যুক্তরাজ্যও নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মানদণ্ড সব ক্ষেত্রে পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছিল।

অর্থাৎ, দ্য প্রিন্টের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এখন অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বললেও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়েই বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল। দ্য প্রিন্টও সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছে, আওয়ামী লীগের নিজস্ব নির্বাচনী রেকর্ড নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন ছিল।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও সাক্ষাৎকারে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় দলটির নেতৃত্বের বিচারাধীন থাকার বিষয়টি নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিষেধাজ্ঞাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞাকে গণতন্ত্রের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রকৃত অর্থে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কেও শেখ হাসিনা একই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ওই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক বা বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে স্বীকার করেন না। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় ভোটারদের সামনে প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প ছিল না।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার এই বক্তব্যের গুরুত্ব রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন। শেখ হাসিনা সেই সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হোক। জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার ইচ্ছা তার রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও ফেরার পথ পরে জানানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন তিনি দেশের বাইরে থাকতে চান না।

তবে তার দেশে ফেরার সামনে বড় আইনি ঝুঁকি রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। জাতিসংঘের হিসাবে ওই আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

শেখ হাসিনা ওই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অনুপস্থিতিতে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডকে বিচার বলা যায় না। তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনালের কাঠামো পরিবর্তন করেছে, বিচারক ও কৌঁসুলি নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখানো হয়েছে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। তার বক্তব্য, তিনি মামলাগুলো আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করবেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাবেন। তবে আইনকে ন্যায়বিচারের মাধ্যম হতে হবে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের মাধ্যম নয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার বিষয়েও সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার আগে থেকে ছিল না। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় এবং আরও রক্তপাত ঠেকানোর প্রয়োজন থেকেই তিনি নয়াদিল্লিতে চলে যান।

শেখ হাসিনার দাবি, এখন দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তার অভিযোগ, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুরা অনিরাপদ বোধ করছেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

২০২৪ সালের আন্দোলনের পেছনে বিদেশি কোনো সংস্থার সমর্থন ছিল কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে শেখ হাসিনা পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। পরে পুলিশ স্টেশন, সরকারি স্থাপনা, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়ে হামলা, অস্ত্র লুট এবং কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, এসব ঘটনায় কয়েকটি পক্ষ লাভবান হয়েছে। তার তালিকায় রয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, উগ্রবাদী গোষ্ঠী, জঙ্গি নেটওয়ার্ক, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাওয়া শক্তি এবং বাংলাদেশকে দুর্বল ও বিভক্ত দেখতে চাওয়া বিদেশি স্বার্থ। তবে তিনি আবারও বলেন, এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তাকে ‘পুতুল’ বলা কতটা যথাযথ—এমন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন, ‘পুতুল’ শব্দটি বিষয়টিকে খুব সহজ করে দেখা। তার দাবি, ইউনূস শুধু কারও নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি এমন একটি রাজনৈতিক প্রকল্পের ‘সুবিধাভোগী ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারী’, যার ফলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সময় সম্পর্কে শেখ হাসিনার আরও অভিযোগ, ওই সময়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আবার জায়গা করে নেয়। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি উৎসাহিত হয়। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি দুর্বল করা হয়। সংখ্যালঘু, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নাগরিকেরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও বক্তব্য হিসেবেই এসেছে। দ্য প্রিন্টের সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হওয়ার কোনো দাবি করা হয়নি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার দিকে এগোলেও ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে তার সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতিতে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে ভারত সফরের সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার মতে, ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের প্রতি কোনো অনুগ্রহ নয়। দুই দেশের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধ, সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই স্লোগান বা বৈরিতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল ও পরিণতভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করা প্রয়োজন।

অবৈধ অভিবাসনের বিষয়েও নিজের নীতির কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তার মতে, যৌথভাবে পরিচয় যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, মানব পাচারকারী ও জাল নথির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বাস্তব সহযোগিতার মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করা উচিত। তিনি বিষয়টি শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও দায়িত্বশীলভাবে সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেছেন, তার দীর্ঘ শাসনামলসহ বহু বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কনস্যুলার পর্যায়ে নিয়মিত সংলাপ হয়নি। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন।

দ্য প্রিন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা একদিকে ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে বর্তমান বিএনপি সরকারকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নিজের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, তার সরকারের সময়কার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়েও গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার মুখে এখন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা, দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর নতুন সরকারের বৈধতা—সবকিছু মিলিয়ে তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ওয়ালটন হাই-টেকের ১৮০% নগদ ও ১০% স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ

🕒 প্রকাশ: ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংক-কমিউনিটি ব্যাংক চুক্তি

🕒 প্রকাশ: ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বরখাস্ত ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের

🕒 প্রকাশ: ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় নির্বাচন দাবি

🕒 প্রকাশ: ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘুষের অভিযোগে অপসারিত বিচারপতি জামায়াতে, ২২ বছর পর ফিরল সেই বিতর্ক, প্রশ্ন ‘পাপমুক্তির’ রাজনীতি নিয়ে

🕒 প্রকাশ: ১১:৩২ অপরাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250