শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ *** প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে *** প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম *** রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন *** দুই দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পলাতক নানকের বিলাসী জীবন *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক রাত ৯টায়: দ্য ওয়াল *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের গুজব, নেপথ্যে কাদের–নানকপন্থীরা? *** দ্য উইকের দাবি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল হলো কেন *** শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, কী বলছে নয়াদিল্লি

বিদেশি বিনিয়োগে ঘানা-উগান্ডার পেছনে কেন বাংলাদেশ?

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, ৮ই জুলাই ২০২৬

#

দেশের অর্থনীতি এখন ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। ভৌগোলিক অবস্থানও কৌশলগত। বঙ্গোপসাগর ঘিরে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্রেও রয়েছে দেশটি। এত সম্ভাবনা থাকার পরও বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। শুধু প্রতিবেশী ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় নয়, আফ্রিকার কয়েকটি ছোট অর্থনীতির দেশও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এ বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬-এ। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ৭ জুলাই। সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৫ শতাংশ। তবে এ প্রবৃদ্ধির পরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান খুব বেশি বদলায়নি।

কারণ, বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বিচার করলে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ছোট অর্থনীতির দেশও অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে উগান্ডার অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ। অথচ ২০২৫ সালে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ।

একই চিত্র ঘানা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতেও। অর্থনীতির আকারে তারা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ছোট। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক বেশি সফল। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আফ্রিকার কয়েকটি দেশ জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং অবকাঠামোভিত্তিক বড় প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এসব প্রকল্পে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে এমন বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ খুব কম আসছে। ফলে অর্থনীতির আকার বড় হলেও বিদেশি মূলধনের প্রবাহ সীমিত রয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাপী বিদেশি বিনিয়োগের চিত্রও কিছুটা ইতিবাচক। আঙ্কটাডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ১ ট্রিলিয়ন ৬২৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই প্রবাহিত হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদহার এবং বাণিজ্য অনিশ্চয়তার চাপের মধ্যে থাকলেও বিনিয়োগ পুরোপুরি থেমে যায়নি। বরং নতুন শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ এখনো মূলত বিদ্যমান বিনিয়োগ ধরে রাখার লড়াই করছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, অর্থনীতির আকারের তুলনায় বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তার বড় অংশই নতুন বিনিয়োগ নয়। বরং আগে থেকেই দেশে থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পুনর্বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, অনেক বিদেশি কোম্পানি বিভিন্ন কারণে মুনাফার অর্থ নিজ দেশে নিতে পারছে না। আবার স্থানীয় ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে তারা সেই অর্থ আবার বাংলাদেশেই বিনিয়োগ করছে। এতে পরিসংখ্যান কিছুটা বাড়ে। কিন্তু নতুন শিল্প স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা নতুন প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয় না।

এম মাসরুর রিয়াজের মতে, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন বিনিয়োগ আনা। সে জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হবে। নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট কমাতে হবে। করব্যবস্থা সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে যে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেটিও কাজে লাগাতে হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়া দেশগুলোর তালিকাও বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। আঙ্কটাডের হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ২৭৭ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, ১৫১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে। এরপর রয়েছে হংকং, চীন ও ব্রাজিল। দেশগুলোর সবার মধ্যে একটি মিল রয়েছে। তারা বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল নীতিমালা, উন্নত অবকাঠামো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ আসে ২০১৫ সালে। সে বছর এফডিআই ছিল ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। এরপর সেই ধারা আর বজায় থাকেনি। করোনা মহামারির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পরবর্তী কয়েক বছরেও বিদেশি বিনিয়োগ দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ছিল ২০২৪ সালে। সে বছর এফডিআই নেমে আসে মাত্র ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে। একই বছরের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপেক্ষা করেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে।

২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ আবার কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এ প্রবৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো আগের বছরের অস্বাভাবিক নিম্ন ভিত্তি। ফলে শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখালেও প্রকৃত অর্থে বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো প্রত্যাশার অনেক নিচে।

বাংলাদেশ যে দেশগুলোর সঙ্গে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা করে, তাদের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। ২০২৫ সালে ভারত ৩৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়া পেয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলার। ভিয়েতনামে এসেছে ২০ বিলিয়ন ডলার। কম্বোডিয়াও পেয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার। এমনকি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানও পেয়েছে ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়েও বেশি।

রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি, খনিজ এবং অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে ধারাবাহিকভাবে নীতি সংস্কার করেছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। কর–সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ–সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে।

ঘানার উদাহরণটি উল্লেখযোগ্য। দেশটির প্রেসিডেন্ট জন মাহামা দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসার ব্যয় কমাতে কয়েকটি কর বাতিল করেন। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও ইতিবাচক বার্তা দেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতির এ ধারাবাহিকতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশেও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ নেয়। সেপ্টেম্বরে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির সিঙ্গাপুর কার্যালয়ে কর্মরত আশিক চৌধুরীকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসেই এক অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী জানান, তিনি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ২৩৫ জন প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে বিনিয়োগে প্রধান বাধাগুলোর তালিকাও সংগ্রহ করেছেন। বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য ছিল প্রায় একই ধরনের। তারা নীতির ধারাবাহিকতা চান। দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চান। শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদের নির্ভরযোগ্য তথ্য চান। পাশাপাশি দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তখন আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে ব্যবসার পথে থাকা অপ্রয়োজনীয় বাধা দূর করা হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ব্যবসায়ী মহলের বড় একটি অংশ মনে করছে, দৃশ্যমান পরিবর্তন এখনো খুব সীমিত।

বিদেশি বিনিয়োগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের আত্মকথা ও মূলধারার সেতুবন্ধন: ‘নির্বাচিত নাটক: মৃত্তিকা চাকমা’

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে

🕒 প্রকাশ: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

🕒 প্রকাশ: ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন

🕒 প্রকাশ: ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250