শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ *** প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে *** প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম *** রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন *** দুই দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পলাতক নানকের বিলাসী জীবন *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক রাত ৯টায়: দ্য ওয়াল *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের গুজব, নেপথ্যে কাদের–নানকপন্থীরা? *** দ্য উইকের দাবি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল হলো কেন *** শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, কী বলছে নয়াদিল্লি

সুখবর এক্সপ্লেইনার

অ্যান্টি–ডাম্পিং ইস্যুতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, রপ্তানির সামনে কতটা ঝুঁকি?

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, ৩১শে জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ভৌগোলিক নৈকট্য, তুলনামূলক কম পরিবহন ব্যয় এবং শিল্পপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে সেই বাজারেই এখন নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এবার বাংলাদেশের পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর)।

আগামী ৬ আগস্ট এ বিষয়ে মৌখিক শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজিটিআরের নোটিশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পিইটি ফিল্মও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ, বিদেশি কোম্পানিগুলো অস্বাভাবিক কম দামে পিইটি ফিল্ম বিক্রি করছে, যার ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও তদন্ত শুরু হওয়া মানেই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা, মূল্য কাঠামো, উৎপাদন ব্যয়, বাজার পরিস্থিতি এবং দেশীয় শিল্পের ক্ষতির মাত্রা যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ শুধু একটি নতুন তদন্ত নয়; বরং এটি একটি বড় প্রবণতার অংশ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বহাল রয়েছে। হাইড্রোজেন পার–অক্সাইডের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর। অতীতে ফ্লোট গ্লাস, ফিশিং নেট এবং রহিমআফরোজের ব্যাটারির বিরুদ্ধেও তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা গেছে। অর্থাৎ ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক উপস্থিতি যত বাড়ছে, ততই বাণিজ্য প্রতিকার ব্যবস্থার ব্যবহারও বাড়ছে।

পিইটি ফিল্ম বাংলাদেশের তুলনামূলক নতুন কিন্তু সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের মোড়ক তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় উৎপাদক এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ পণ্য রপ্তানি করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা বাজারভিত্তিক মূল্যেই রপ্তানি করছে, কোনো ধরনের ডাম্পিং করেনি। ফলে শুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় ডাম্পিংয়ের অভিযোগ যৌক্তিক নয়। কারণ দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, আমদানিনির্ভর কাঁচামাল এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচই বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচের নিচে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য বিক্রি করা বাস্তবসম্মত নয়। অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমানও একই যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, বর্তমান ব্যয় কাঠামোয় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খরচের কম দামে ভারতে পণ্য রপ্তানি করছে—এমনটি বিশ্বাস করা কঠিন।

অন্যদিকে ভারতের অবস্থানও পুরোপুরি রাজনৈতিক নয়; এর পেছনে শক্তিশালী শিল্প–অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি দেশীয় উৎপাদন ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকে আরও জোরদার করেছে। ভারতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যখন মনে করছে বিদেশি পণ্যের কারণে তাদের বাজার অংশ কমছে, তখন তারা ডিজিটিআরের দ্বারস্থ হচ্ছে। ডিজিটিআরও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে তদন্ত পরিচালনা করছে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, একই সময়ে চীন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের বিরুদ্ধেও একাধিক অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত চালাচ্ছে সংস্থাটি।

ভারতীয় গণমাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য প্রতিকার ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধিকে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি বৃদ্ধি পেলে এবং দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতির অভিযোগ করলে ডিজিটিআর দ্রুত তদন্ত শুরু করছে। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ তদন্তকে এককভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তদন্ত শেষে যদি সত্যিই অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে এর প্রভাব কতটা হবে? প্রথমত, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পিইটি ফিল্মের মূল্য প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, রপ্তানিকারকদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে, যা স্বল্প সময়ে সহজ নয়। তৃতীয়ত, নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

অবশ্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। রহিমআফরোজের ব্যাটারির ঘটনায় বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর কাঠামোয় আপত্তি তোলার পর ভারত শেষ পর্যন্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করেছিল। ফলে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনের আওতায় বাংলাদেশেরও প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তার জন্য শক্তিশালী তথ্য–প্রমাণ, উৎপাদন ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব এবং দক্ষ আইনি প্রস্তুতি প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক অনুরোধ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা জরুরি। কোন মূল্যে রপ্তানি হয়েছে, সেই মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, উৎপাদন ব্যয় কত, দেশীয় বাজারে একই পণ্যের দাম কত—এসব তথ্য সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে। শুনানিতে বাংলাদেশের অবস্থান যত শক্তিশালী হবে, তদন্তের ফলও তত অনুকূলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

বিশ্ববাজারেও পিইটি ফিল্মের চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক এ বাজারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাময় শিল্প। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধি, মূল্য নির্ধারণ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং বাণিজ্য বিরোধ মোকাবিলার সক্ষমতাও সমানভাবে বাড়াতে হবে।

ভারতের এই তদন্ত তাই কেবল একটি পণ্যকে ঘিরে নয়; এটি বাংলাদেশের রপ্তানি কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। যদি বাংলাদেশ তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে শুধু পিইটি ফিল্ম নয়, ভবিষ্যতের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যও একই ধরনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে পারে। আর যদি তা না হয়, তাহলে ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের জন্য অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

বাংলাদেশ-ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের আত্মকথা ও মূলধারার সেতুবন্ধন: ‘নির্বাচিত নাটক: মৃত্তিকা চাকমা’

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে

🕒 প্রকাশ: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

🕒 প্রকাশ: ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন

🕒 প্রকাশ: ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250