শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ *** প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে *** প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম *** রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন *** দুই দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পলাতক নানকের বিলাসী জীবন *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক রাত ৯টায়: দ্য ওয়াল *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের গুজব, নেপথ্যে কাদের–নানকপন্থীরা? *** দ্য উইকের দাবি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল হলো কেন *** শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, কী বলছে নয়াদিল্লি

নতুন মুরগি বাজারে আসছে, মাংস হবে লাল, ডিম পাড়বে বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:১০ অপরাহ্ন, ১লা জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা দীর্ঘ ১৫ বছরের গবেষণায় সফলভাবে একটি নতুন রঙিন (লাল) মাংস উৎপাদনকারী মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন। এই জাত উদ্ভাবনে মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। গবেষণা প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত খাবার পরিবেশন করা হয়।

ড. বজলুর রহমান মোল্যা জানান, ভোক্তার চাহিদা ও খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। অনেকে ব্রয়লার মুরগি খেতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এই জাতটি বিকল্প হবে।

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় সেক্স-লিংক হোয়াইট লাইনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সমজাতীয়তা বা হোমোজাইগোসিটি ৮৯ থেকে ৯৩.১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা একটি স্থায়ী জাত হিসেবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মুরগির পালকের রঙ নির্ধারণকারী এসওএক্স-১০ জিনের ডিলিশন শনাক্তে একটি সহজ পিসিআর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

জাতটির কিছু প্যারেন্ট লাইন ৬২ সপ্তাহে ২০৫টি পর্যন্ত ডিম দিতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক মোল্যা আরও বলেন, ‘অন্য জাতের মুরগি একই সময়ে আরও কম ডিম পাড়ে। এ ছাড়া প্রচলিত সোনালি মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চার ওজন যেখানে সাধারণত ২৬ থেকে ২৮ গ্রাম হয়, সেখানে নতুন উদ্ভাবিত জাতের বাচ্চার ওজন পাওয়া গেছে প্রায় ৩৮ গ্রাম। একদিন বয়সী বাচ্চার ওজনে প্রতি এক গ্রাম বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব। বাজারজাতকরণের সময় প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত চূড়ান্ত ওজনে প্রতিফলিত হয়, যা খামারিদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করবে।’

এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রথাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষণা দল সরাসরি গ্রামে গিয়ে ১৫ থেকে ২৫ জনের ক্লাস্টারভিত্তিক নারী খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব খামারিকে বাচ্চার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের খামারে মুরগির বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। বাজার চাহিদার কারণে অনেক খামারি নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই মুরগি পালন করছেন এবং প্রতিকেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ড. মোল্যা জানান, ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এই মুরগির মাংস পরীক্ষা করে কোনও অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। 

বাজারে দেশি মুরগির নামে চালিয়ে ক্রেতা প্রতারণার কোনও সুযোগ থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশি মুরগির নাম ভাঙানো নয়, বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও শতভাগ নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা দিয়ে এটিকে বাজারে একটি স্বতন্ত্র রঙিন মাংসের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ে প্রসারের ওপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শুধু ল্যাবরেটরিতে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি ও সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন। এর মাধ্যমে খামারিরা লাভবান হবেন এবং দেশের নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয় কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণায় উৎপাদিত দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রিজাত সব পণ্য সরাসরি এই বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে।’

নতুন মুরগি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

‘অশ্লীলতা মনে হয়নি’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র বিতর্কিত ঝরনার দৃশ্য নিয়ে মন্দাকিনী

🕒 প্রকাশ: ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের আত্মকথা ও মূলধারার সেতুবন্ধন: ‘নির্বাচিত নাটক: মৃত্তিকা চাকমা’

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে

🕒 প্রকাশ: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

🕒 প্রকাশ: ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250