ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতকে ঘিরে মাথাচাড়া দেওয়া জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। গতকাল শুক্রবার (১২ই ডিসেম্বর) দেশটির পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন তিনি।
ফলে আগামী বছরের শুরুতেই সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হলো। আগাম নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী অনুভূতি কাজে লাগানোর কৌশল নিচ্ছেন অনুতিন। খবর রয়টার্সের।
সুদূরপ্রসারী এই রাজনৈতিক পদক্ষেপের আগে চলতি সপ্তাহেই আবারও কম্বোডিয়ার সঙ্গে তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে জুলাই মাসে পাঁচ দিন ধরে লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।
নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় জাতীয়তাবাদী অনুভূতি প্রবল। অনুতিন চার্নভিরাকুল কৌশলে এ অনুভূতি কাজে লাগাতে চাইছেন।
থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেই হিসাবে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করেন। এরপর ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডে আরও রাজনৈতিক দেনদরবার ও অস্থিরতা বাড়তে পারে।
উবন রাচাথানি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক তিতিপল পাকদেওয়ানিচ বলেন, সীমান্ত সংঘর্ষ ঘিরে জাতীয়তাবাদের উত্থান—যা অনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের প্রদেশগুলো ভোটের দিক থেকে ভুমজাইথাই পার্টির শক্ত ঘাঁটি। একই সঙ্গে অনুতিনের অন্যান্য অঞ্চলেও শক্তিশালী মিত্র রয়েছে, যারা দেশপ্রেমের এই জোয়ারে ভর করে নিজেদের আসন নিশ্চিত করতে পারে।
তবে সীমান্ত ইস্যু অনুতিনের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিথর্ন থানানিথিচট।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন