শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ *** প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে *** প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম *** রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন *** দুই দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পলাতক নানকের বিলাসী জীবন *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক রাত ৯টায়: দ্য ওয়াল *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের গুজব, নেপথ্যে কাদের–নানকপন্থীরা? *** দ্য উইকের দাবি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল হলো কেন *** শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, কী বলছে নয়াদিল্লি

সুখবর এক্সপ্লেইনার

অটোরিকশা থেকে হাজার কোটি টাকা আদায়ের চিন্তা: রাজস্ব, নাকি জটিলতা বাড়বে?

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, ১লা জুন ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বা নিবন্ধনভিত্তিক করের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে দেশের সবচেয়ে বড় অনানুষ্ঠানিক পরিবহন খাতগুলোর একটি প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

সরকারের ধারণা, সারাদেশে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে বছরে হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। তবে এই উদ্যোগ শুধু রাজস্ব সংগ্রহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সড়ক নিরাপত্তা, নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকার এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির নানা প্রশ্ন।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন হারে কর বা নিবন্ধন ফি নির্ধারণের চিন্তা চলছে।

প্রাথমিকভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২ হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণের আলোচনা থাকলেও পরে তা অর্ধেকে নামিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে সিটি এলাকায় ২ হাজার ৫০০, পৌরসভায় ১ হাজার এবং ইউনিয়ন এলাকায় ৫০০ টাকার একটি কাঠামো চূড়ান্ত হতে পারে।

দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য নেই। কারণ, অধিকাংশ যানবাহনই নিবন্ধনের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি সংস্থার অনুমান অনুযায়ী দেশে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০ লাখের মধ্যে হতে পারে। 

অন্যদিকে কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা ৭০ লাখ থেকে ১ কোটির কাছাকাছি। রাজধানী ঢাকাতেই ১৫ থেকে ২০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক যানবাহনই সরকারের নজর কাড়ছে।

যদি ১ কোটি অটোরিকশার প্রতিটির কাছ থেকে গড়ে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা যায়, তাহলে বছরে ১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। রাজস্ব ঘাটতির চাপে থাকা সরকারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় একটি সম্ভাবনা।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, অটোরিকশা কি কেবল রাজস্ব আয়ের উৎস, নাকি এটি দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ? গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শহর ও গ্রামে ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’র সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাস বা ট্রেন যেখানে পৌঁছায় না, সেখানে মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই যান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এসব যানবাহন ব্যবহার করেন এবং লাখো মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, এতদিন সরকারের প্রধান সমস্যা ছিল নিয়ন্ত্রণহীনতা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ কি বৈধ—এই বিতর্কের মধ্যে বাস্তবে এগুলোর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ফলে এখন এগুলোকে হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয়। বরং নিবন্ধন, ফিটনেস, চালক প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সড়কে চলাচলের মাধ্যমে একটি নীতিগত কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন।

সিপিডির গবেষণা বলছে, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। এটি একটি বৃহৎ দেশীয় শিল্পও তৈরি করেছে। গ্যারেজ, ব্যাটারি ব্যবসা, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, চার্জিং স্টেশন এবং চালক-মালিক—সব মিলিয়ে একটি বিশাল অর্থনৈতিক শৃঙ্খল গড়ে উঠেছে। ফলে কর আরোপের সিদ্ধান্ত শুধু রাজস্বের বিষয় নয়; এটি একটি বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, নিবন্ধন ও করের আগে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে অধিকাংশ অটোরিকশার কোনো মানসম্মত নকশা নেই। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্সও নেই। বিভিন্ন গবেষণা ও নগর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে এসব যানবাহনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরিবহন বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের বক্তব্য হচ্ছে, সমস্যার মূল উৎস যানবাহন নয়, বরং নিয়ন্ত্রণহীনতা। একটি নীতিমালার আওতায় এনে কোথায়, কতগুলো এবং কী মানের অটোরিকশা চলবে—সেটি নির্ধারণ করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান কাজ।

কর আরোপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিস্তারের সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং স্টেশনের অভিযোগও বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে চার্জিং অবকাঠামোকেও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঠিক হিসাব রাখা এবং চুরি কমানো সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে সামাজিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। অধিকাংশ চালক নিজে অটোরিকশার মালিক নন। তারা দৈনিক ভাড়ায় বা জমা ভিত্তিতে গাড়ি চালান। ফলে নতুন করের আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত মালিকের ওপর পড়বে, নাকি যাত্রীভাড়ার মাধ্যমে জনগণের ওপর স্থানান্তরিত হবে—সেই প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও অনেক চালক মনে করছেন, নিবন্ধন ও বৈধতার বিনিময়ে মালিকেরা অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নিতে পারেন। কারণ বৈধতা পেলে অভিযানের ভয় কমবে এবং ব্যবসা আরও স্থিতিশীল হবে।

সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবায়ন। দেশে যেখানে নিবন্ধনবিহীন যানবাহনের সংখ্যা লাখ লাখ, সেখানে কার্যকর ডাটাবেস তৈরি, নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, কর আদায় এবং ফিটনেস তদারকি করা সহজ কাজ নয়। অতীতে বিভিন্ন খাতে কর আরোপ করা হলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাওয়া যায়নি। অটোরিকশার ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি রয়েছে।

তবু সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করের আওতায় আনার উদ্যোগটি কেবল রাজস্ব বৃদ্ধির পদক্ষেপ নয়। এটি দেশের দ্রুত সম্প্রসারিত এক অনানুষ্ঠানিক পরিবহন খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার একটি বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত। তবে কর আদায়ের আগে নিবন্ধন, নিরাপত্তা, ফিটনেস, চালক প্রশিক্ষণ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে এ উদ্যোগ নতুন জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব বাজেটে অটোরিকশার ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে সরকার এটিকে শুধুই রাজস্ব আহরণের প্রকল্প হিসেবে দেখে কি না, নাকি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবহন সংস্কারের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করে।

যদি দ্বিতীয় পথটি অনুসরণ করা হয়, তাহলে রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন শৃঙ্খলাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। আর যদি শুধু কর আদায়ের দিকে জোর দেওয়া হয়, তাহলে তা নতুন অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের আত্মকথা ও মূলধারার সেতুবন্ধন: ‘নির্বাচিত নাটক: মৃত্তিকা চাকমা’

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে

🕒 প্রকাশ: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

🕒 প্রকাশ: ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন

🕒 প্রকাশ: ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250