ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষা চাষ। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চাষাবাদ হচ্ছে শীতকালের জনপ্রিয় ফসল সরিষা। অপেক্ষাকৃত কম খরচ ও পরিশ্রমে দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। তাই সরিষা চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
মানিকগঞ্জের মাঠজুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ। মৌমাছির ঝাঁক সরিষা ফুলে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করছে। সংগৃহীত মধু নিয়ে জমা করছে পাশে স্থাপিত মৌ-বাক্সে। ফলে সরিষা ফুলের পরাগায়ন হওয়ায় একদিকে যেমন সরিষার উৎপাদন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মধুর উৎপাদন। সরিষা ও মধুর সমন্বিত চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও মৌ-চাষিরা।
সরিষা ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন মধু সংগ্রহকারীরা; তেমনি বাড়ছে সরিষার উৎপাদনও। ৩-৪ দিন পরপর আগুনের ধোঁয়া দিয়ে এসব বাক্স থেকে মৌমাছি সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি বাক্সের ভেতরে ৭-৮টি ফ্রেমে মৌচাক থাকে। এই মৌচাক একটি স্টিলের ড্রামের ভেতরে নিয়ে ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের মাধ্যমে মধু বের করা হয়। এসব মধু সংগ্রহ করে প্লাস্টিকের ড্রাম ভর্তি করে বাজারজাত করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলাতে সরিষা চাষ হয়। এ বছর জেলায় ৬৩ হাজার ২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় এ বছর ১২০ জন মৌ-চাষি প্রায় ১২ হাজার মৌ-বাক্স বসিয়েছেন। এসব মৌ-বাক্স থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি মধু ২৫০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় চাষির ভাগ্য ফেরাচ্ছে থোকায় থোকায় কমলা
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী গ্রামে আসেন মৌ-চাষি (মধু সংগ্রাহক) সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে মানিকগঞ্জে মৌ-চাষ ও মধু সংগ্রহ করছি। গত বছর চার মাসে প্রায় ৬০ মণ মধু সংগ্রহ করেছি। প্রতি কেজি মধু ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এসব মধু ডাবর, এপি ও এসিআই কোম্পানির কাছে বিক্রি করেছি। প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি মৌ-বাক্স থেকে দেড় থেকে ২ কেজি করে মধু পাওয়া যায়। মধুর স্বাদ ও মান অনেক ভালো।’
এসি/ আই.কে.জে/
খবরটি শেয়ার করুন