শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ *** প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে *** প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম *** রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন *** দুই দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পলাতক নানকের বিলাসী জীবন *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক রাত ৯টায়: দ্য ওয়াল *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের গুজব, নেপথ্যে কাদের–নানকপন্থীরা? *** দ্য উইকের দাবি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল হলো কেন *** শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, কী বলছে নয়াদিল্লি

ইউনূস আমল থেকে কমছে বিদেশি ঋণ ও সহায়তা, ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছে

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪২ অপরাহ্ন, ৩রা আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং এর ফলে বিদেশি ঋণ, অনুদান ও বিনিয়োগে গতি আসবে—এমন প্রত্যাশা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, নতুন অর্থায়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল।

তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন প্রতিশ্রুতিতে দেখা যায়নি। বরং এ সময়ে দেশের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) গতকাল রোববার প্রকাশিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক বিদেশি সহায়তা মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৫২৪ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৮৩২ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ৩০৮ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ শতাংশ।

ইআরডির দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিল ৪৭৬ কোটি মার্কিন ডলার। এরপর ২০১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮৫ কোটি মার্কিন ডলারে। সেই হিসাবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ৫২৪ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি ২০১৩ সালের পর সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা বাড়িয়ে নতুন অর্থায়ন আকর্ষণের যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। নতুন প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার অর্থ হলো আগামী কয়েক বছরে বৈদেশিক সহায়তার পাইপলাইন আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পড়তে পারে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পাওয়া মোট প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫০১ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ এবং ২৩ কোটি ৩৮ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান। নতুন প্রতিশ্রুতির বড় অংশই এসেছে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) একাই ২৬৯ কোটি মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মোট প্রতিশ্রুতির প্রায় ৫১ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) দিয়েছে ৮২ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া জাপান ৩১ কোটি ৪০ লাখ, চীন প্রায় ২৮ কোটি এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ২৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আলোচ্য অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়া কোনো নতুন ঋণ বা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

শুধু নতুন প্রতিশ্রুতিই নয়, বিদেশি অর্থ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে। ইআরডির তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীরা মোট ৮০৭ কোটি মার্কিন ডলার ছাড় করেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৮৫৭ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ অর্থ ছাড় কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। মোট অর্থ ছাড়ের মধ্যে ৭৫২ কোটি ডলার ঋণ, প্রায় ৫০ কোটি ডলার প্রকল্প অনুদান এবং ৫ কোটি ডলার খাদ্য সহায়তা হিসেবে এসেছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত অর্থবছরে সরকার মোট ৪৪৯ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ২৯৫ কোটি ডলার ছিল মূলধন এবং প্রায় ১৫৪ কোটি ডলার ছিল সুদ। আগের অর্থবছরের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

এর ফলে নিট বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তিও কমে গেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যেখানে নিট ঋণপ্রাপ্তি ছিল ৪০৩ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট ঋণপ্রাপ্তি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণ হিসেবে যে অর্থ বাংলাদেশ পেয়েছে, তার প্রায় ৬০ শতাংশই আগের নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নতুন ঋণ আসার গতি কমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে পুরোনো ঋণের পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

অর্থ ছাড়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ, যার ছাড়ের পরিমাণ ২০৭ কোটি মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এডিবি, যার ছাড় ১৯১ কোটি ডলার। এরপর রাশিয়া ১০৫ কোটি, জাপান প্রায় ৮০ কোটি, এআইআইবি প্রায় ৬৯ কোটি, চীন প্রায় ৫৩ কোটি এবং ভারত প্রায় ২৮ কোটি মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা কে. মুজেরি বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরটি রাজনৈতিক রূপান্তর ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে। উন্নয়ন সহযোগীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে বড় অঙ্কের ঋণ ও অনুদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। যেসব সরকারের দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাদের সঙ্গে বড় অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরেই নতুন প্রতিশ্রুতির তুলনায় বিদেশি অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বেশি থাকায় বৈদেশিক সহায়তার পাইপলাইন ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। নতুন প্রতিশ্রুতি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থসংস্থানের চাপ আরও বাড়বে। এর ফলে সরকারি উন্নয়ন ব্যয় কমে যেতে পারে এবং নিম্নআয়ের মানুষের কাছে অর্থপ্রবাহও হ্রাস পেতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক অর্থায়ন কমে গেলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, সময়মতো অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং বৈদেশিক সহায়তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী অর্থবছরগুলোতে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন প্রতিশ্রুতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই রাখা সরকারের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। কারণ অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক অর্থায়ন এখনো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নতুন প্রতিশ্রুতির নিম্নমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বেশি বিদেশি ঋণ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের আত্মকথা ও মূলধারার সেতুবন্ধন: ‘নির্বাচিত নাটক: মৃত্তিকা চাকমা’

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে

🕒 প্রকাশ: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

🕒 প্রকাশ: ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন

🕒 প্রকাশ: ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250