মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ডিজে পার্টি-কাণ্ডে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির প্রত্যাহার *** বার্সার ম্যাচ দেখেননি, তবু রেফারিং নিয়ে খোঁচা মরিনহোর *** মালদ্বীপকে উড়িয়ে ফাইনালে ভারতের সঙ্গী বাংলাদেশ *** মেসিবিহীন আর্জেন্টিনায় একের পর এক চোটের হানা *** যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ায় শফিকুর রহমান জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাননি *** ভোট দেওয়া-না দেওয়া সবার সরকার হতে চাই: প্রধানমন্ত্রী *** ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা একদিনের রিমান্ডে *** পাবনার আওয়ামী লীগের ৩ নেতা ঢাকায় গ্রেপ্তার *** ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে জামায়াতের আমির—‘তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন’ *** ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার

সুখবর এক্সপ্লেইনার

দেশের দুই নারী অ্যাথলেট ‘পুরুষ’ প্রমাণিত, ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড়, নানা প্রশ্ন

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ই আগস্ট ২০২৬

#

ফাইল ছবি

জাতীয় পর্যায়ের দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে ঘিরে যে প্রশ্নটি এত দিন ছিল গুঞ্জন ও অভিযোগের পর্যায়ে, এবার তা পৌঁছেছে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি চিকিৎসা বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের জাতীয় প্রতিযোগিতায় অর্জিত সব পদক বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শুধু হরমোনের মাত্রা বেশি থাকার ভিত্তিতে কাউকে ‘পুরুষ’ হিসেবে ঘোষণা করা কতটা যৌক্তিক?

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলছেন, চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতা নারী নন, পুরুষ। সে কারণেই তাদের জাতীয় প্রতিযোগিতার সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ মোট নয়টি পদক এবং কবিতার প্রায় চারটি পদক রয়েছে। ফেডারেশনের ভাষায়, পদকগুলো এখন অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যে ‘বডিলি শিফট’ হবে। একই সঙ্গে দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।

জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট। তার বয়স ২৮ বছর। তিনি থ্রো ইভেন্টে অংশ নিতেন। কবিতা রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট এবং বয়স ১৯ বছর। তিনি স্প্রিন্টার। দুজনই এত দিন নারী হিসেবেই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

অভিযোগ ওঠার পর তাদের লিঙ্গসংক্রান্ত পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেয় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি। এ জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হয় এবং ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

ফেডারেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনে জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি টেস্টোস্টেরন পাওয়া যায়। জান্নাতের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে ১৯ দশমিক ৬৬ ন্যানোমোল প্রতি লিটার। কবিতার ক্ষেত্রে তা ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল প্রতি লিটার। ফেডারেশন জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের আগের নারী বিভাগের যোগ্যতার বিধিতে টেস্টোস্টেরনের সীমা ছিল ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল প্রতি লিটার এবং নির্দিষ্ট যৌন বিকাশগত বৈশিষ্ট্য থাকা অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে অংশ নিতে এই মাত্রার নিচে টেস্টোস্টেরন ২৪ মাস ধরে রাখার শর্ত ছিল।

এখানেই বিষয়টির চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক জটিলতা। টেস্টোস্টেরন বেশি থাকা মানেই একজন মানুষ ‘পুরুষ’—চিকিৎসাবিজ্ঞান এমন সরল সমীকরণ দেয় না। মানুষের যৌন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে ক্রোমোজোম, প্রজনন অঙ্গ, হরমোন, হরমোনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা এবং জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ—সবকিছুর ভূমিকা রয়েছে। কারও শরীরে যৌন বিকাশের ভিন্নতা বা ডিফারেন্সেস অব সেক্স ডেভেলপমেন্ট (ডিএসডি) থাকতে পারে। এমন মানুষের শরীরে একাধিক যৌন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় দেখা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় এ ধরনের অ্যাথলেটদের নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসও বিষয়টিকে কেবল ‘নারী না পুরুষ’—এভাবে দেখেনি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাদের বিধিতে যৌন বিকাশের ভিন্নতা থাকা অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমানোর শর্ত ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে সংস্থাটি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। এখন নারী বিভাগে অংশগ্রহণের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একবারের জন্য এসআরওয়াই জিন পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। গালের ভেতরের কোষ বা রক্তের নমুনা থেকে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় এসআরওয়াই জিন পাওয়া গেলে অ্যাথলেটকে নারী বিভাগে অংশ নেওয়া থেকে সাময়িকভাবে বিরত রেখে আরও চিকিৎসা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসের বর্তমান নিয়মও বেশি টেস্টোস্টেরনকে একা একজন মানুষকে ‘পুরুষ’ ঘোষণা করার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করছে না। বরং হরমোনের মাত্রা, যৌন বিকাশ এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য—এসবের সমন্বিত মূল্যায়নের দিকে যাওয়া হয়েছে।

এই জায়গাটিই জান্নাত ও কবিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে—এটি নারী বিভাগে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ হতে পারে। কিন্তু শুধু ওই মাত্রার ওপর ভিত্তি করে তাদের ব্যক্তিগত লিঙ্গপরিচয় বা জৈবিক লিঙ্গ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া আর নারী বিভাগের প্রতিযোগিতার যোগ্যতা নির্ধারণ করা এক বিষয় নয়।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার ইতিহাসও এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার শিক্ষা দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাথলেট ক্যাস্টার সেমেনিয়ার ঘটনা সবচেয়ে আলোচিত। ২০০৯ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৮০০ মিটারে জেতার পর তাঁকে লিঙ্গ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরে তার শরীরে যৌন বিকাশের ভিন্নতা এবং পুরুষদের পর্যায়ের টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যের কথা প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু বিশ্ব অ্যাথলেটিকস তাকে কখনো পুরুষ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেনি। বরং তাকে আইনগতভাবে নারী হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়ে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য টেস্টোস্টেরন নিয়ন্ত্রণের নিয়ম করেছিল।

ভারতের দৌড়বিদ দ্যুতি চাঁদের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে হরমোন পরীক্ষায় তার শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি টেস্টোস্টেরন পাওয়া যাওয়ার পর তাকে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে পুরুষ ঘোষণা করা হয়নি। চাঁদ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট বা খেলাধুলার সালিসি আদালতে যান। ২০১৫ সালে আদালত তৎকালীন নিয়ম স্থগিত করে এবং চাঁদ প্রতিযোগিতায় ফেরার সুযোগ পান। বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ ঘটনাকে নারী অ্যাথলেটদের স্বাভাবিকভাবে বেশি টেস্টোস্টেরন থাকার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছে।

উগান্ডার দৌড়বিদ অ্যানেট নেগেসার ঘটনাও হৃদয়স্পর্শী। তিনি জন্মের সময় নারী হিসেবে নির্ধারিত এবং নারী হিসেবেই বেড়ে ওঠেন। তার শরীরে টেস্টোস্টেরন বেশি পাওয়ার পর তাকে যৌন বিকাশসংক্রান্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বা এবিসির প্রতিবেদনে নেগেসা বলেছেন, বিষয়টির পূর্ণ অর্থ তিনি তখন বুঝতে পারেননি এবং ওই সিদ্ধান্ত তার ক্রীড়াজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

এমনকি ইতিহাসের পুরোনো ঘটনাগুলোতেও ‘পরীক্ষা করে নারী থেকে পুরুষ ঘোষণা’—বিষয়টি এত সরল নয়। জার্মানির হাইনরিশ রাটজেন নারী হিসেবে হাই জাম্পে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে চিকিৎসা পরীক্ষার পর তাকে পুরুষ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয় এবং পরে নতুন নাম ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। আবার চেকোস্লোভাকিয়ার দৌড়বিদ জেডেনেক কৌবেক ১৯৩৬ সালে নারী থেকে পুরুষ হিসেবে লিঙ্গ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। তবে এসব ঘটনা আধুনিক হরমোন পরীক্ষার ভিত্তিতে কাউকে পুরুষ ঘোষণার উদাহরণ নয়। ইতিহাস ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথিতে এ ধরনের ঘটনাগুলো যৌন বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা, জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং পরবর্তী চিকিৎসাগত মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথি ঘেঁটে এমন নির্ভরযোগ্য উদাহরণ পাওয়া যায় না, যেখানে শুধু রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি পাওয়ার পর কোনো নারী অ্যাথলেটকে সরাসরি ‘পুরুষ’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেই কারণেই তার লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে গেছে। বরং সেমেনিয়া, দ্যুতি চাঁদ ও নেগেসার মতো ঘটনাগুলো দেখায়, বেশি টেস্টোস্টেরন পাওয়া একজন অ্যাথলেটের পরিচয় ও ক্রীড়া-যোগ্যতার প্রশ্ন আলাদা করে বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, এবিসি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও একই ধরনের জটিলতার কথা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করে, নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা রক্ষায় শরীরের টেস্টোস্টেরনসহ জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা বৈজ্ঞানিকভাবে অমূলক নয়। খেলাধুলায় পুরুষ বয়ঃসন্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক সুবিধা শক্তি, পেশি ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই বিশ্ব অ্যাথলেটিকস নারী বিভাগের প্রতিযোগিতায় জৈবিক সুবিধার প্রশ্নকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

কিন্তু একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ মহলে সতর্কতাও আছে। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-চিকিৎসা ঐকমত্যের একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, টেস্টোস্টেরনকে নারী বিভাগের যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকলেও এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এবং টেস্টোস্টেরন কমানোর আগে ও পরে ক্রীড়া-সক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

তাই জান্নাত ও কবিতার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের দুটি দিক আলাদা করে দেখা জরুরি। নারী বিভাগে তাদের অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে চিকিৎসা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয়; আর ‘ওরা নারী নয়, পুরুষ’—এমন চূড়ান্ত সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিচয় নির্ধারণ করা আরেক বিষয়। প্রথমটির জন্য পরীক্ষার ফল, জৈবিক বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিধি প্রাসঙ্গিক। দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজন আরও বিস্তৃত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রতি সংবেদনশীলতা।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের বর্তমান বিধিতেও এই পার্থক্যটি স্পষ্ট। ২০২৬ সালের কার্যকর নিয়মে এসআরওয়াই পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে অ্যাথলেটকে নারী বিভাগ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে আরও চিকিৎসা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে; সরাসরি ‘পুরুষ’ ঘোষণা করার কথা বলা হয়নি।

জান্নাত ও কবিতার সামনে এখন তাই শুধু পদক হারানোর প্রশ্ন নয়। তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়, ক্রীড়াজীবন, ভবিষ্যৎ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। খেলাধুলার মাঠে ন্যায্যতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার পথ যেন একজন মানুষের পরিচয়কে অযথা অপমানিত না করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি রক্ত পরীক্ষার সংখ্যা মানুষের পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। আর একজন অ্যাথলেটের পদক কেড়ে নেওয়ার আগে যেমন নিয়মের কঠোরতা দরকার, তেমনি প্রয়োজন চিকিৎসাবিজ্ঞানের পূর্ণতা, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং মানুষের প্রতি যথেষ্ট মানবিকতা।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250