শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ *** প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে *** প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম *** রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন *** দুই দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পলাতক নানকের বিলাসী জীবন *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক রাত ৯টায়: দ্য ওয়াল *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ *** দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের গুজব, নেপথ্যে কাদের–নানকপন্থীরা? *** দ্য উইকের দাবি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল হলো কেন *** শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, কী বলছে নয়াদিল্লি

পেঁয়াজের পর এবার বাড়লো আদার ঝাল

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৪৯ অপরাহ্ন, ২৫শে মে ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক মাস ধরে ভোক্তাকে ভোগাচ্ছে পেঁয়াজের বাজার। নিত্যপণ্যটির দাম এ সময়ে বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে আরেক দুশ্চিন্তার খবর দিচ্ছে মসলাজাতীয় পণ্য আদা। এটির দামও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় আদার দাম বাড়ছে বলে দাবি পাইকার ও আমদানিকারকদের।

তবে ভোক্তারা বলছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি খরচ ও মজুতের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের তদারকি করলে দাম কমবে দরকারি এ পণ্যের।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে দেশি আদার পরিমাণ খুব কম। বেশিরভাগই আমদানি করা। সারাবছরই কমবেশি চায়না আদা পাওয়া যায়। রাজধানীতে এক মাস আগে এর কেজি ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দ্বিগুণের বেশি দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। তাও কয়েক দোকান ঘুরলে দু-এক দোকানে পাওয়া যায়। চায়না আদার দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন অপ্রচলিত বাজার থেকেও এ পণ্য আমদানি করছেন।

মিয়ানমার ও ভারত থেকে আসা বেশিরভাগ আদাকেই দেশি বলে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। নতুন করে এখন ভারত, ভুটান ও ভিয়েতনাম থেকেও আমদানি হচ্ছে। এগুলোকেও দেশি আদা বলে বিক্রি করছেন তারা।

মাসখানেক আগে এসব আদার কেজি বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বাজারে এখন ইন্দোনেশিয়ার আদাও পাওয়া যাচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা এটি বিক্রি করছেন ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের এ সময়ে দেশি আদার কেজি ছিল ১০০ থেকে ১৪০ টাকা; আর আমদানি করা আদার দাম ছিল ৮০ থেকে ১৩০ টাকা। টিসিবির তথ্যমতে, এক বছরে দেশি আদার দাম বেড়েছে ১৭৫ শতাংশ। আর আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ২১০ শতাংশ। কারওয়ান বাজারের পাইকারি আদা-রসুন বিক্রেতা ও ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম বলেন, কয়েক দিন ধরে শ্যামবাজারে আদার সরবরাহ কমেছে।

১০০ কেজি কিনতে চাইলে আমদানিকারকরা দিচ্ছেন ৫০ কেজি। চায়না আদা পাওয়াই যায় না। পেলেও পাইকারিতেই প্রতি কেজির দাম ৫০০ টাকার কাছাকাছি পড়ে যায়। ভারতের কেরালার আদা না আসায় এখন ভুটান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।

সরবরাহে ঘাটতির কথা জানালেন আমদানিকারকরাও। শ্যামবাজার পেঁয়াজ-আদা-রসুন ব্যবসায়ী মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক ও আদা আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন বছরে ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ টন আদার প্রয়োজন হয়। এর সিংহভাগই আমদানি করা।

সবচেয়ে বেশি আসে ভারতের কেরালা ও চীন থেকে। গত বছর কেরালার আদা পাইকারিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এ কারণে বাজারে দাম নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্তু এবার কেরালার আদা আসছে না। চীন থেকেও আসছে খুব কম।


আরো পড়ুন: পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
 

কম আসার কারণ জানতে চাইলে শহিদুল বলেন, কেরালায় এবার উৎপাদন কম হয়েছে। তাছাড়া ডলারের সংকট এবং দাম বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এলসি খুলে আদা আমদানি করতে গেলে প্রতি কেজিতে খরচ পড়ে ৩২০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয় শুল্কসহ নানা খরচ। তাই আমদানিকারকরা কম আমদানি করছেন। তবে ব্যবসায়ীদের এসব যুক্তিকে দাম বাড়ানোর কৌশল মনে করেন ভোক্তারা।

গতকাল কারওয়ান বাজারে ৪০০ টাকা দিয়ে এক কেজি ইন্দোনেশিয়ান আদা কেনেন ফেরদৌসী বেগম। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী এই ক্রেতা  বলেন, ‘বিদেশ থেকে কম আসছে, এটা মিথ্যা কথা। বাজারে তো আদার অভাব নেই। কোরবানি ঈদ আসছে, তাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে বছরে আদার চাহিদা তিন লাখ টনের। তবে আমদানিকারকদের দাবি, চাহিদা রয়েছে ৬ থেকে ১০ লাখ টনের। দেশে উৎপাদন হয় খুবই কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে আদা উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার টন। ফলে চাহিদার বড় অংশই মেটাতে হয় আমদানি করে।

এদিকে  বান্দরবানে গত বছর মোট আদা আবাদ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছিল ২৯ হাজার ৪০৬ টন। বান্দরবানের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এম এম শাহ নেয়াজ বলেন, এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০৫ হেক্টর। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৪৭ টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর বান্দরবানে উৎপাদন বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তবে বান্দরবানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। জেলা সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার আদা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে পাহাড়ের পরিস্থিতি ভালো নেই। দুর্গম এলাকার বসবাস করা আদা চাষিরা বেশিরভাগ বম সম্প্রদায়ের। তারা বিভিন্ন কারণে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফলে চলতি বছর আদার উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।  

এসি/আইকেজে 

পেঁয়াজ আদা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ, বদলে যাচ্ছে কি রাজনীতির সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের আত্মকথা ও মূলধারার সেতুবন্ধন: ‘নির্বাচিত নাটক: মৃত্তিকা চাকমা’

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন সংক্ষিপ্ত হচ্ছে

🕒 প্রকাশ: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

🕒 প্রকাশ: ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ৪ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন

🕒 প্রকাশ: ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250