মঙ্গলবার, ১৩ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি পেলেন ৯ জুলাই যোদ্ধা *** যে ইস্যুতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি *** ‘সাংবাদিকদের স্নাতক হওয়ার বাধ্যবাধকতায় সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হবে’ *** বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আসছে *** শেখ হাসিনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করল পিবিআই *** বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর কোনো পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে নয়: ভারতীয় সেনাপ্রধান *** ইরানের সরকার স্বীকার করল নিহত ২০০০—বেসরকারি সূত্রমতে ১২০০০ *** প্রবাসীদের সুখবর দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল *** শিক্ষার্থীদের চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রথম আলো কেন মাহফুজ আনামের নামের বানান বদলে দেয়

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৩ অপরাহ্ন, ৪ঠা নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও পাঠকপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলো বিভিন্ন ব্যক্তির নামের বানানে পরিবর্তন ও কাটছাঁটের বিষয়ে একধরনের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই পত্রিকাটি তা করছে। এর অংশ হিসেবে পত্রিকাটি ব্যক্তির নামের বানান নিজেদের মতো উচ্চারণে লেখে, নামে কাটছাঁট করে, আবার নামের সঙ্গে অনেক মুসলমান পুরুষ মোহাম্মদ এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘মো.’ ব্যবহার না করলেও পত্রিকাটি তা উল্লেখ করে দেয়।

পত্রিকাটির এই স্বেচ্ছাচারিতা থেকে বাদ পড়েননি ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ আনামের নামও। এতে মাহফুজ আনামের নামের উচ্চারণে বিকৃতি ঘটছে। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে মাহফুজ আনাম প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও পত্রিকাটি বিকৃত উচ্চারণেই তার নাম লিখে আসছে। 

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ব্যক্তির নামের বানান যাচ্ছেতাইভাবে লেখা প্রচলিত আইনের একধরনের বিরোধী। নাম পরিবর্তনের বা সংশোধনের জন্য সবসময় সঠিক ও আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। কারণ, প্রচলিত আইন অনুযায়ী হুট করে ঘোষণা দিলে, বা পত্রিকায় লিখে দিলেই কারো নামের বানান বদলানো যায় না। এর জন্য নির্দিষ্ট আইনকানুন মেনে হলফনামা সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক। যথাযথ নিয়মকানুন মেনেই সম্পাদন করতে হয় হলফনামা। এর আগে নামের বানান বদলানো একধরনের বেআইনি। কোনো সংবাদমাধ্যম এটা খেয়ালখুশি মতো করার অধিকার রাখে না।

জানা গেছে, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম নিজের নামের বানানে কখনোই হসন্ত ব্যবহার করেন না। তার শিক্ষাগত সনদপত্র, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান লেখা ‘মাহফুজ আনাম’। তার নামের পারিবারিক উচ্চারণও এই বানানে। কিন্তু প্রথম আলো তার নামের বানান লেখে, ‘মাহ্‌ফুজ আনাম’। সঙ্গে হসন্ত যোগ করে পত্রিকাটি।

আজ মঙ্গলবার (৪ঠা নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে প্রথম আলোর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানাতে এসে মাহফুজ আনাম বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদনেও তার নামের বানানে হসন্ত ব্যবহার করেছে প্রথম আলো।

প্রথম আলোর প্রায় ৫০টি প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে, এগুলোতে মাহফুজ আনামের নামের বানানে হসন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। তারা লিখেছে, মাহ্‌ফুজ আনাম। অথচ তিনি কখনো নামে হসন্ত ব্যবহার করেন না। তিনি ডেইলি স্টারে নিয়মিত কলাম লেখেন। তার কলামের বাংলা অনুবাদ ডেইলি স্টারের অনলাইনের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত হয় মাহফুজ আনাম নামে।

ডেইলি স্টারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সাংবাদিক সুখবর ডটকমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিজের লেখা কলাম বাংলায় অনুদিত হওয়ার পর প্রকাশের আগে তা দেখে দেন মাহফুজ আনাম। সেখানে তিনি কখনোই নামের বানানে হসন্ত যোগ করেননি। অফিসিয়ালি স্বাক্ষরেও তিনি নামের বানান লেখেন মাহফুজ আনাম।

অভিজ্ঞদের মতে, মাহফুজ আনামের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বের নামের উচ্চারণে বিকৃতি ঘটানো পত্রিকার নীতিমালা হতে পারে না। এটা অনৈতিক এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা বিরোধী। দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রথম আলোরও প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ছিলেন। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নামের বানান অবিকৃত রাখার যে চর্চা গণমাধ্যমগুলো করে, সেখান থেকে পত্রিকাটির বিচ্যুতি অগ্রহণযোগ্য।

তাছাড়া ব্যক্তির ডাকনাম, বা উপনাম ছেঁটে ফেলা পত্রিকার সম্পাদকীয় হতে পারে না। ব্যক্তির পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতি ঘটে সাধারণত ডাকনামে। অথচ প্রতিষ্ঠিত অনেকের নামের বেলায় কাজটি প্রথম আলো করছে। 

এ ধরনের নীতিমালা কেন ও কীসের ভিত্তিতে প্রথম আলো অনুসরণ করছে, এ বিষয়ে নানাভাবে চেষ্টা করেও পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমানের বক্তব্য জানতে পারেনি সুখবর ডটকম।

মতিউর রহমান মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250