শনিবার, ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশের ওয়াকআউট *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মোট ১১৮১ *** দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার ৩৪ ঘটনা: পূজা উদযাপন পরিষদ *** জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির পথে ভারত *** দুর্গাপূজায় প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস, চালু ২০ অক্টোবর *** সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে প্রভাব, ভোগান্তিতে ১৫৭৭৯ যাত্রী *** পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ নিহত ২৮ *** বকেয়া দাবিতে গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সরানো হলো শ্রমিকদের *** চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন উত্তরার পোশাকশ্রমিকেরা *** ব্রিকসের পর বিমসটেকেও বাংলাদেশের ‘যথোপযুক্ত প্রতিনিধি’ না থাকা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জয়সওয়াল

২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের আয়ু হবে ১,০০০ বছর: দাবি বিজ্ঞানীদের

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:২৫ অপরাহ্ন, ১১ই আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে অগ্রণী কিছু ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মনে করছেন, মানুষ এখন আর আগের মতো কেবল শতবর্ষ আয়ুর স্বপ্ন দেখছে না। বরং এমন এক সময় আসছে, যখন আমরা স্বাভাবিক আয়ুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময়, অর্থাৎ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারি। তথ্যসূত্র পপুলার মেকানিকস।

এ ভাবনার পেছনে রয়েছেন খ্যাতিমান ফিউচারিস্ট রে কারজওয়াইল, ইয়ান পিয়ারসন ও অবারি ডি গ্রে। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকসের যুগান্তকারী অগ্রগতির ফলে মানুষ ‘প্রকৃতপক্ষেই অমরত্ব’ লাভ করতে যাচ্ছে।

কম্পিউটারবিজ্ঞানী ও লেখক রে কারজওয়াইল বলেন, ২০২৯ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘সিঙ্গুলারিটি’। আর ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মেশিনের প্রকৃত একীভূত ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এই একীভূতের মধ্যে থাকবে—ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস, ক্লাউডভিত্তিক সচেতনতা এবং ন্যানোবট, যা শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিরসনে কাজ করবে।

এভাবে মানুষের মন অন্তত অমর হয়ে উঠবে, এমনকি একটি সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তা তৈরি হবে, যা আজকের তুলনায় লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে। তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—এই মৃত্যু প্রতিরোধ কি প্রযুক্তিপন্থী আশাবাদের দিবাস্বপ্ন?

২০২৩ সালে ইন্টারনেট ব্রাউজার নেটস্কেপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ধনকুবের বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেন বলেন, ‘আমাদের সভ্যতা প্রযুক্তির ওপর গড়ে উঠেছে, প্রযুক্তিই আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের গৌরব।’

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সামাজিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা দুই অধ্যাপক জানান, প্রযুক্তি সমাজের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না।

২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তারা বলেন, দারিদ্র্যের মতো জটিল সমস্যার সমাধান বহুস্তরীয় হতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি কেবল একটি অংশ। তাদের মতে, প্রযুক্তিকে সব সমস্যার একমাত্র সমাধান মনে করার রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এতে ক্ষমতাবানদের স্বার্থই প্রাধান্য পায়, সাধারণ মানুষের নয়।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ইয়ান পিয়ারসনও মনে করেন, কেবল ধনীরা প্রথমে এই ‘অমরত্ব’ অর্জন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কিছু সৌভাগ্যবান ব্যক্তি জিন প্রকৌশল, রোবোটিকস ও ডিজিটাল চেতনাকে ভার্চুয়াল জগতে বা কৃত্রিম শরীরে আপলোড করার মাধ্যমে হাজার বছরের আয়ু লাভ করতে পারবেন।

তার আশা, এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে মধ্যবিত্তদের কাছেও পৌঁছাবে। পাশাপাশি তিনি ক্যানসার, হৃদ্‌রোগসহ বহু প্রাণঘাতী রোগের উন্নত চিকিৎসা এবং কোষের ক্ষয় মেরামতের মাধ্যমে বার্ধক্য রোধেরও আশা দেখান।

বায়োমেডিকেল জেরোনটোলজিস্ট অবারি ডি গ্রে বার্ধক্যকে একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে দেখেন এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ধক্যকে সারানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করেন।

তবে এত বছর বাঁচার পর মানুষের মধ্যে জীবন নিয়ে তাড়া বা আগ্রহ কমে যাবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বিরক্ত। তিনি বলেন, যারা ১৫ বা ২০ বছর বয়সী তরুণ, এমনিতেই ৫০ বছর পর মৃত্যুর কথা ভেবে জীবন চালায় না। অতএব, দীর্ঘায়ু মানুষকে নিষ্ক্রিয় বা অনুৎসাহী করে তুলবে—এ ধারণা সঠিক নয় বলেই তার মত।

জে.এস/

গবেষণা মানুষের আয়ু

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250